আমি মোঃ মাসুম রানা, ইউ এক্স ডিজাইনার
আমি যেভাবে কাজ করি

Shares

নাম এবং পেশা

মোঃ মাসুম রানা। ফ্রিল্যান্স ইউ এক্স ডিজাইনার।

কবে কখন কিভাবে আপনি ডিজাইনের জগতে আসেন? আপনি কি ছোট বেলা থেকেই এমন সৃজনশীল ছিলেন বা নির্দিষ্ট একটি সময় পার হবার পরে এমন হয়েছেন?

দুঃখিত আমি যে শুরুর গল্পটা হয়তো কিছুটা বড় হবে। আমার আব্বু ১৯৯৮ সাল থেকে টেক্সটাইল প্রিন্ট ডিজাইনার হিসেবে জব করেন। ওই সময়ে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ফ্যাক্টরীগুলোতে কম্পিউটার অতটা এভেইলাবেল ছিল না বিধায় আব্বু বা উনার সমমানের ডিজাইনাররা তখন হাতে ডিজাইন করতেন। মোটা ফিল্ম এর উপরে (এক্স-রে ফিল্ম এর মত দেখতে) বিশেষ ধরনের কলম দিয়ে, স্কেল ধরে ধরে কি কি সব রেখা আঁকতেন, ফুল আঁকতেন অনেক সময় ধরে। সামান্য ভুলের জন্য দেখতাম পুরো ফিল্মই বাতিল হয়ে যেতো। তখন আমার বয়স নিতান্তই কম। স্কুলে ভর্তি হয়েছি সবে। এসব কিছুই বুঝতাম না। নষ্ট বাতিল এক্সরে ফিল্ম গুলো নিয়ে খেলা করতাম।

২০০২ সালে আব্বু কম্পিউটার কিনলেন এবং নিজেও কম্পিউটার চালানো শিখলেন, কম্পিউটারে কিভাবে ডিজাইন করতে হয় তা শিখলেন। উনি রাতজেগে কম্পিউটারে কাজ করতেন, আর আমি পিছনে চেয়ার ধরে দাঁড়িয়ে থাকতাম। জানেনতো ছোট মানুষের ব্রেইন খুব দ্রুত ধরে ফেলতে পারে। আমারও ব্যাতিক্রম হল না। ধীরে ধীরে শিখে ফেললাম ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর এবং কিভাবে একটা উইন্ডোজ কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম নষ্ট করে ফেলা যায় তার সকল কারিগরি। দুইদিন বাদে বাদে পিসি নষ্ট করতাম এবং খুব বকা খেতাম, নিজেই আবার ঠিক করতাম।

২০০৪ সালে আমি পুরোদস্তর প্রিন্ট ডিজাইনার। আব্বুর অনেক কাজে সাহায্য করতাম। ২০০৫ সালে যখন ক্লাস এইটে পড়ি তখন আব্বুর পরিচিত কিছু কোম্পানি থেকে আব্বুর কাছে আমাকে চাকরির অফার দিতো। আব্বু তাদেরকে না করে দিতেন। ২০০২ সাল থেকে কম্পিউটারের সাথে বন্ধুত্ব হলেও সর্বপ্রথম ইন্টারনেট সংযোগ হাতে পাই ২০১০ সালে। এর আগেই আমি বিভিন্ন পত্রিকার টেকনোলজি কলাম, বিভিন্ন ম্যাগাজিন যেমন সি-নিউজ পড়ে ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে জেনেছি। ইন্টারনেট পাবার পরে ব্যাপারগুলো খুব সহজে বুঝে ফেললাম।

২০১১ সাল পর্যন্ত আমি ডিজাইনের খুচরা কাজগুলো করতাম, যেমন ব্যানার বানানো, ছোট আইকন কিংবা অল্প দামের লোগো। কেননা আমি তখন প্রিন্ট ডিজাইন জাতীয় কোন কাজের হদিস পাচ্ছিলাম না। ধীরে ধীরে ওয়েব ইউ আই ডিজাইন ব্যাপারটার সাথে পরিচিত হতে লাগলাম এবং এর পরে আর থেমে থাকিনি। মাঝপথে একবার খুব হতাশ হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম ডিজাইন ছেড়ে দিয়ে ডেভেলপার হবো। শ্রদ্ধেয় তানভীর জুনায়েদ ভাই আমাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে ডিজাইনে কন্টিনিউ করতে ইন্সপায়ার করেছেন। উনি না করলে হয়তো আজকে আমাকে ডেভেলপার ক্যাটাগরিতে কলাম লিখতে হতো।

কোথায় থেকে আপনি প্রতিদিন ডিজাইন করার উৎসাহ পান?

হাসলেন? নিজের পুরনো কাজগুলো দেখলে অনেক কিছু শেখা যায়। আগে যেসব ভুল করতাম তা সহজেই ধরতে পারি।

আপনার চোখে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ডিজাইনার কে?

২০১১ সাল থেকে একজন এর কাজ আমার খুব ভাল লাগতো। উনার নাম Victor Novak। যদিও উনি মূলত লোগো স্পেশালিষ্ট। কিন্তু পরে অনেকের কাজ ভাল লাগলেও তিনিই আমার চোখে সেরা। ভিক্টর নোভাককে ভালবাসার আরেকটি কারন হতে পারে তার চুল এবং আমার চুলের সাদৃশ্য।

ডিজাইনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন পরে এমন টুলস বা সফটওয়্যারের নাম বলুন যেটি ছাড়া আপনার চলা প্রায় অসম্ভব এবং কেন?

ডিজাইন পেশাটা আসলে টুলস এর উপরে অতখানি নির্ভর করে না। পুরোটাই নির্ভর করে আপনার ব্যাক্তিতবোধ, রুচি, চিন্তা-ভাবনার ধরন বা আপনার মানসিকতার উপড়ে, আপনার চিন্তা শক্তির উপড়ে।

ব্যাপারটা এমন যে ১০ জন মানুষের সামনে একটা কুঠার এবং গাছের গুড়ি দেওয়া হলে ১০ জন মানুষই তা কুপিয়ে চুলার লাকড়ি বানাবে। একজন ডিজাইনারই পারবে সেটা থেকে সুন্দর শেপ দিয়ে সুন্দর কিছু বের করে আনতে। তবুও আমার কাজের জন্য ফটোশপ গুরুত্বপূর্ণ, কদাচিৎ ইলাস্ট্রেটর, গুগল ক্রোম, পেন্সিল এবং খাতা।

Business & Beauty Design

Business & Beauty Design

আপনি যখন কোন ডিজাইন করার জন্য মনস্থির করেন তখন ডিজাইনটি করার আগে স্কেচ বা ছবি এঁকে নেন নাকি সরাসরি কম্পিউটারে ডিজাইন করা শুরু করে দেন?

সবসময় আঁকি না। তবে চেষ্টা করি স্কেচ করে নিতে।

কাজ করার সময় আপনি কোন ধরনের গান শুনতে পছন্দ করেন?

ছোটবেলা থেকেই আমি ক্লাসিক্যাল গানের পাগল। বিশেষ করে নজরুল সঙ্গীত এবং বাংলা আধুনিক গান। পপ, রক মিউজিক পছন্দ করি না। তবে কাজের সময় খুব একটা গান শোনা হয় না। শুনলেও লাউড স্পীকারে, হেডফোনে নয়। কেননা নরম মিউজিকগুলো হেডফোনে শুনলে আপনি ঘুমিয়ে যাবেন।

আপনার জীবনের টাইম সেভিং শর্টকাট অথবা লাইফ হ্যাক কি?

আমি খুব ক্রেজি স্বভাবের। ভেঙ্গে চুড়ে কাজ করতে পছন্দ করি। যদি মনে হয় এই কাজটা ভাল হবে, তা করবোই যে কোন মূল্যে হোক। আমার উপর কারোর ডোমিনেশন পছন্দ করি না বিধায় ২০১৪ সালে লাভের গুড় ফেলে দিয়ে পার্টনারের সাথে বিজনেসে ইতি ঘটিয়েছিলাম। সারাক্ষণ বসে বসে কাজ করি বিধায় অচিরেই হয়তো শরীর ভেঙ্গে পড়বে। তাই কাজে মনোযোগিতা পাবার জন্য সাইক্লিংটা খুব গুরুত্বপূর্ণ আমার জন্য।

প্রতিদিনের টু-ডু লিস্ট তৈরি করার জন্য কোন সফটওয়্যার/পন্থাটি আপনার কাছে সেরা মনে হয়?

ব্যাক্তিগতভাবে আমার সকল প্রজেক্ট ড্রপবক্সে সেভ করা থাকে এবং প্রতিটা প্রজেক্ট এর জন্য সেখানেই একটা টেক্সট ফাইলে লিস্ট বানিয়ে রাখি। এটা করতে আমার ভাল লাগে। তবে অনলাইন টুলসগুলোকে অবশ্যই রেকমেন্ড করবো।

একজন বাংলাদেশি হিসেবে যানজট আমাদের নিত্য দিনের সঙ্গী। আপনি যানজটের সময়টাকে সদ্ব্যবহার করার জন্য কী করেন?

আগেই বলেছি আমি নিয়মিত সাইক্লিং করি। যার ফলে যানজট ব্যাপারটা থেকে প্রায় মুক্ত। তবুও যদি মাঝে মাঝে বাসে চড়া হয় এবং জ্যামে আটকাই তখন জানালা দিয়ে মানুষের চলাফেরা দেখি, মানুষের পোশাক দেখি। জ্যামের দীর্ঘতা বাড়লে বাস থেকে নেমে হাঁটি।

আপনার মোবাইল এবং কম্পিউটার ছাড়া এমন কী ডিভাইস ব্যাবহার করেন যেটা ছাড়া আপনি থাকতে পারবেন না?

প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টার ভেতরে আমি ১৫-১৮ ঘণ্টাই কম্পিউটারের সামনে বসে থাকি। আমি তো মানুষ, রোবট নই। এতক্ষণ কম্পিউটারে থাকার পরেও আমি চাই না আর কোণ গ্যাজেটের সংস্পর্শে আসতে। বাকি সময়টা ঘুমাই, খাই, সাইকেল চালাই। আমার কোণ স্মার্টফোন নেই। নোকিয়ার পুরনো E-5 মডেল এর ফোন ইউজ করি কথা বলার জন্য।

Masum Rana's Workstation

Masum Rana’s Workstation

 

দিনের ঠিক কোন সময়ে আপনি খুব মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারেন? আপনার দৈনিক ঘুমানোর সময়সূচি কেমন?

কাজের যখন খুব চাপ থাকে তখন সবসময়ই কাজ করতে পারি। তবে রাতজেগে কাজ করাটা ভাল লাগে আমার।

প্রতিদিন আপনার কাছে এমন কী মনে হয়, যে আপনি সবার থেকে আলাদা ?

বাংলা সাহিত্যকে আমি অসম্ভব রকমের ভালবাসি যেটা হয়তো অনেক প্রযুক্তিমনা মানুষের ভেতর নেই। সবাই যখন ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে গভীর জ্ঞান অর্জন করে ফেলেছে তখন আমার মনে হয় যে, নিজের অস্তিত্বই তো জানতে পারলাম না এখনও, অন্যেরটা জানার সময় কই? টুকটাক লেখালেখি করতেও ভালবাসি। মানুষের কথা শুনতে খুব পছন্দ করি। সে যেই হোক, একজন ডিজাইনার, একজন উদ্যোক্তা কিংবা একজন রিকশাওয়ালা, তার কথাগুলো শুনতে পছন্দ করি। যতখানি বিরক্তিকর কথাই বলুক না কেন। কারন আপনি যখন কারো সাথে কথা বলবেন এবং সে আপনার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবে না কিংবা আপনাকে থামিয়ে নিজে কথা বলতে চাইবে, এর অনুভূতিটা কেমন তা আমি জানি। আসলে কথা বলতে চাওয়ার মানুষ সবাই, কথা শুনতে চায় কয়জন?

আপনার কাছে গুণীজনদের কাছ থেকে পাওয়া এখন পর্যন্ত সেরা উপদেশ কোনটি মনে হয়েছে?

একটা গান আছে,

নীড় ছোট ক্ষতি নেই, আকাশ তো বড়। হে মন বলাকা মোর অজানার আহ্বানে, চঞ্চল পাখা মেলে ধরো।

তিনটা বই এবং চলচিত্র নাম আপনি মনে করেন সব ডিজাইনারদের পড়া এবং দেখা উচিত?

মুভিঃ মুভি খুব বেশি দেখা হয়নি। আর যাই দেখেছি তার বেশিরভাগই সুন্দর কাহিনী নির্ভর। এখানে আমি ৩ টা ভিন্ন ক্যাটাগরীর মুভি সাজেস্ট করি। এর ভেতর আছে জীবনের কঠিন বাস্তবতা, মারাত্মক যুদ্ধ এবং সেই সাথে রোমান্টিক কাহিনী।

বইঃ ডিজাইন বা ইউ এক্স ডিজাইন নিয়ে আমি তেমন কোণ বই পড়িনি। Smashing Magazine, Mashable এর আর্টিকেলগুলো পড়া হয় নিয়মিত।

যেকোনো জটিল পরিস্থিতিতে নিজের কাজ করার মন মানসিকতা ঠিক রাখার জন্য আপনি কী করেন?

হাসিখুশি থাকতে পছন্দ করি সবসময়। ২০১২ সালে যখন ব্লগিং করতাম তখন আমার নিকনেম ছিল হাসিররাজা। খুব মজা করতাম। কঠিন বিপদেও শান্ত থাকতে পারি বা সর্বাত্মক চেষ্টা করি। সেই সাথে কাজও করার চেষ্টা করি।

আপনি কিভাবে “User Interface” এবং “User Experience” পার্থক্য করেন?

জর্জ ডব্লিউ বুশ, মানুষটা দেখতে অনেক সুন্দর। কিন্তু উনার কুকীর্তি দুনিয়ার সবাই জানে। এটাই হল ইউ আই এবং ইউ এক্স এর পার্থক্য। এডলফ হিটলার, ছোটখাটো গড়নের একজন মানুষ পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি মানুষ হত্যা করেছে। ইউ আই এবং ইউ এক্স এর পার্থক্য। এপোলো-১৩ মুভিতে একটা ডায়লগ আছে, “I don’t care what it is designed to do, I care what it can do”।

আপনার ইউআই/ইউএক্স ইঞ্জিনিয়ার জীবনে এখন পর্যন্ত সব থেকে বড় অর্জন কোনটি?

জীবনের সব থেকে বড় অর্জন হল ছোটবেলা থেকে আমি যা করতে ভালবাসি শুধু তাই করেছি। এর ভেতর কিছু কাজ ছিল মারাত্মক আত্মঘাতী এবং ঝুঁকিপূর্ণ। দিন শেষে আমিই সফল। বলেছিলাম আমি খুব ক্রেজি স্বভাবের।

দশজন মানুষ যেটাকে ভাল বলে সেটাকে যে ভাল বলতেই হবে এই বিশ্বাস থেকে অনেক আগেই দুরে সরে এসেছি এবং নিজের জীবনে এর ফলাফল খুব সুন্দরভাবে পেয়েছি।

সবারই একটি স্বপ্ন বা ইচ্ছা থাকে ভবিষ্যতে একটি প্রতিষ্ঠান বা প্রোজেক্ট নিয়ে কাজ করার; আপনারও যদি এমন কোন স্বপ্ন বা ইচ্ছা থেকে থাকে তবে সেটি কী নিয়ে?

আমার এমন ইচ্ছা আছে। মেডিক্যাল সেক্টর নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা আছে। অন্যান্য দেশে এমন অনেক কোম্পানি থাকলেও আমাদের দেশে নেই। ইচ্ছা আছে ডিজাইনকে মানুষের কাছে সহজভাবে তুলে ধরার। আরেকটা ইচ্ছা আছে, আমার রিমোট কোম্পানিটাকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বড় রিমোট কোম্পানিতে রূপান্তর করার।

 Dashboard wip

Dashboard wip

আপনি যদি অ্যাপলের জন্য কোন অ্যাপস ডিজাইন করেন তবে সেটি কী হবে এবং কেন?

ম্যাকের ফটো ভিউয়ার নিয়ে আমি খুব অশান্তিতে থাকি। খুবই বাজে। ফটো দেখার জন্য পিকাসা ব্যবহার করি, এটিকেও বাজে মনে হয়। ম্যাকের পিডিএফ ভিউয়ারতো আরও বাজে। তবে আমি এপলের ইঞ্জিনিয়ার হলে সবার আগে ফটো ভিউয়ারকে নিজের মত করে ডিজাইন করতাম, ইউজার ফ্রেন্ডলি হিসেবে।

আপনার মতে, বর্তমানে বাংলাদেশে ডিজাইন কমিউনিটির অবস্থান কেমন? ভবিষতে কেমন হবে বলে আপনি মনে করেন?

সত্যি কথাটা হল, আমাদের দেশে হাঁতে গোনা কয়েকজন ডিজাইনার আছেন যারা রুট লেভেলের ডিজাইন কি তা বুঝেন, যারা জানেন কিভাবে সমস্যার সমাধান করতে হয়, কিভাবে চ্যালেঞ্জ নিতে হয়। আর বাকি যারা আছে, তাদের কাছে ডিজাইন মানে হল থিম ডিজাইন। দেশের বেশিরভাগ নবীশ ডিজাইনারই এখন থিম ডিজাইনকেই ধ্যান জ্ঞান মনে করছেন। থিম ডিজাইন করবেন ভাল কথা, রিয়েল লাইফ প্রজেক্টগুলোতে ব্যস্ত থাকা উচিৎ বেশিরভাগ সময়। ভবিষ্যতে ডিজাইনারের সংখ্যা দ্রুত বাড়বে। কিন্তু ভাল ডিজাইনারের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং বাড়বে।

The Reader Blog Design

The Reader Blog Design

ডেভেলপারদের সাথে আপনার সম্পর্ক কেমন? আপনি কী তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করেন নাকি প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবে সব সময় কাজ করেন?

সবসময় চেষ্টা করি সবার সাথেই সম্পর্ক ভাল থাকুক। ডেভেলপাররা আমার প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। কিন্তু বাংলাদেশের অনেক ডেভেলপারের সাথে কাজ করে খুব বাজে অভিজ্ঞতা হয়েছে। হাঁতে গোনা কয়েকজন পেয়েছি যারা সুন্দরভাবে কাজ শেষ করতে পেরেছেন। তবে সত্যি বলতে বিদেশী ডেভেলপাররা অনেক দায়িত্ব নিয়ে কাজ করে।

“Dribbble” এর ব্যাপার এ আপনার কী মতামত? এটা কি ভাল মাধ্যম জব পাওয়ার জন্য? আপনার মতে কোনটি সবচেয়ে ভাল মাধ্যম ডিজাইনারদের জন্য জব পাওয়ার?

এখন পর্যন্ত ড্রিবল হচ্ছে ডিজাইনারদের শ্রেষ্ঠ যায়গা। সকল ভাল ডিজাইনারই হয়তো অন্য সকল পোর্টফোলিও সাইট এ নিজের একাউন্ট রেখেছেন, তবে বেশিরভাগই ড্রিবলে বেশি একটিভ। জব পাবার জন্য ড্রিবল অবশ্যই ভাল যায়গা। তবে আরও অনেকগুলো ভাল যায়গা রয়েছে, যেমন বিহ্যান্স, লিঙ্কডইন ইত্যাদি।

যারা ভবিষ্যতের ইউএক্স ডিজাইনার/ইঞ্জিনিয়ার হতে যাচ্ছে তাদেরকে আরও উৎসাহিত করতে আপনার উপদেশ কী হবে? ঠিক কিভাবে কাজ করলে তারাও একদিন আপনার মতো হতে পারবে?

ফটোশপ মানেই ডিজাইন নয়। একদম উপড়ে কুঠার এবং গাছের উদাহরণ দিয়েছিলাম। ডিজাইন নির্ভর করে আপনার চিন্তা ভাবনার উপড়ে। ১০ ঘণ্টার ডিজাইনে আপনি হয়তো ৭ ঘণ্টাই চিন্তা করবেন, আর ৩ ঘণ্টা হাঁতে কাজ করবেন। যদি খুব পরিশ্রম করতে না পারেন তবে আপনাকে হতাশ করবো। মন থেকে ভালবাসতে পারলে ডিজাইন শিখুন, না হলে অনেক দিকেও ক্যারিয়ার গড়ার অপশন রয়েছে। কয়েকটা বক্স এঁকে বা ইমেজ বসালেই ডিজাইন হয় না। প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে। মুখের কথা এবং বাস্তবতা অনেক কঠিন, এটা সবসময় মনে রাখা উচিৎ।

শূন্যস্থান পুরন করুন, আমি এই একই প্রশ্নের উত্তর গুলো  ______  এর কাছ থেকে শুনতে পছন্দ করব।

নুরুজ্জামান শেখ প্রিন্স, আতিক হাসান  এবং আল রায়হান

নুরুজ্জামান শেখ প্রিন্স

নুরুজ্জামান শেখ প্রিন্স

 আতিক হাসান

আতিক হাসান

আল রায়হান

আল রায়হান

 

আপনার সম্পর্কে আপনার কাছের মানুষের মতামত

মাসুমের সাথে পরিচয় অনেকদিন ধরে, সে খুবই প্যাশনিয়েট একজন ডিজাইনার, মাঝে প্রগ্রামিং শুরু করলেও ডিজাইনের প্রতি অতি আশক্তি তাকে ফিরিয়ে আনে। তার সাথে কয়েকটি প্রজেক্টে আমার কাজ করার সুযোগ হয়েছিল। স্বভাবসূলভগতভাবে সে চটপটে, সরল এবং রসিক। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সে সবসময় নিজেকে বোঝাতে সক্ষম হয় যে তাকে পারতেই হবে। তার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।—– Asif Nawaz Saad SaHo

Shares