আমি মোস্তাক আহমেদ, ইউ এক্স ডিজাইনার
আমি যেভাবে কাজ করি

Shares

নাম ও পেশাঃ

মোস্তাক আহমেদ. লীড ইউজার এক্সপেরিয়েন্স ডিজাইনার।

কবে কখন কিভাবে আপনি ডিজাইন জগতে প্রবেশ করলেন? আপনার কি ছোট বেলা থেকেই ডিজাইনার হবার ইচ্ছা ছিল নাকি নিদিষ্ট একটি সময় পার হবার পরে শুরু করেছেন?

আমি যখন স্কুলে পড়তাম তখন আমার এক বন্ধুর বাড়িতে একটি ব্যক্তিগত কম্পিউটার দেখেছিলাম।কেন জানিনা, আমি ঐ দিনই আমার বাকি জীবন ঐ জিনিসটা নিয়েই যেকোন কিছু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এরপর থেকে আমি এটা সম্পর্কে জ্ঞান অন্বেষন শুরু করি। কিন্তু তখনকার সময়ে কম্পিউটার সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা অনেক কঠিন ছিল।

একটি বাস্তব কম্পিউটার কেবলমাত্র স্পর্শ করার জন্যই আমাকে প্রায় ৩ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। আমি সবসময়ই কম্পিউটার শেখার জন্য কোর্স খুজছিলাম। এস.এস.সি এর পর আমি মৌচাকে একটি অতি সাধারণ কম্পিউটার কোর্স এ ভর্তি হয়েছিলাম। ওটা ছিল ৩ মাসের একটা কোর্স। আমি সেখানে ডস ৬.২২, ওয়ার্ড, এক্সেল এবং উইন্ডোজ ৩.১ শিখি। ডস ছিল ঐ কম্পিউটারের প্রধান অপারেটিং সিস্টেম।

এরপর আমি এইচ.এস.সি তে ভর্তি হই এবং আমি ইতিমধ্যেই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে হতাশ হয়ে গিয়েছিলাম। একজন সারাজীবন যা শিখেছে বাস্তব জীবনে তা কেউ করে না। আমার এক স্কুল শিক্ষকের মতে শিক্ষা হল কেবল একটা সার্টিফিকেট পাওয়া, একটা ভাল চাকরি পাওয়া এবং একটা ভাল বিয়ে করার একটা রাস্তা। ঠিক ঐ সময়টাতে NIIT ছিল খুব জনপ্রিয় কম্পিউটার প্রশিক্ষন কেন্দ্র। কিন্তু ওখানে কোর্স করানোর জন্য আমার পরিবারের যথেষ্ট সামর্থ্য ছিল না। এবং তখন আমি আমর এক বড় ভাই এর মাধ্যমে জানতে পারি যে সেখানে একটি নতুন কম্পিউটার প্রশিক্ষন কেন্দ্র চালু হচ্ছে। তারা ঐসময়ে তাদের প্রতিষ্ঠান উদ্ভোদন করছিল এবং প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশাল ছাড়ের ঘোষনা করেছিল।ঐ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার জন্য আমার পিতামাতাকে রাজি করানো আমার পক্ষে বেশ কঠিন ছিল। গতানুগতিক শিক্ষার প্রতি আমার অনীহা এবং কম্পিউটারের প্রতি আমার প্রবল আকর্ষন দেখে অবশেষে দুই বছরের কম্পিউটার কোর্সের টাকা তারা দেয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নেন। এবং এর পর আমি সাধারণ পড়াশোনা ছেড়ে দেই এবং Tulec Computer Education (একটি ভারতীয় টাটা ইনফোটেক) এ ভর্তি হই। আমি প্রাথমিক ভাবে ভর্তি হই প্রোগ্রামার হওয়ার জন্য এবং তখন থেকেই প্রোগ্রামিং শুরু করি।

ঘটনাটি ১৯৯৯ সালের দিকের, সেখানে কোর্স করার প্রায় দের বছর সময় পার হবার পর অস্ট্রেলিয়া থেকে একজন ফ্যাকাল্টি আসেন, কিন্তু তিনি বাংলাদেশি ছিলেন। তার নাম ছিল নবিন। সে একজন ছিলেন চমৎকার একজন মানুষ এবং আমাকে একটি ভাল উপদেশ দিয়ে যান। উনি আমাকে বলে যে আমি যদি সত্যি সত্যি এই সেক্টরে ভাল কিছু করতে চাই তবে আমাকে নতুন কিছু শিখতে হবে। যেমন, ওয়েব প্রোগ্রামিং, কোবরা, এইচটিএমএল, ওয়েব জিজাইন, ইত্যাদি। কিন্তু দুর্ভাগ্য বসতো “Tulec” সেগুলোর একটিও শেখায় না। তাই অনেকটা বাধ্য হয়ে আমাকে অন্য ভাবে এইচটিএমএল সেখা শুরু করতে হয়। আর আমি শুরু করি শুধু মাত্র বই পড়ার মধ্যে দিয়ে।

পরে এক বড় ভাইয়ার সাথে পরিচয় হয় এবং তিনি আমার আমার ডিজাইনের প্রতি এতো আগ্রহ দেখে তার পরিচিত এক আত্মীয়র সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় জিনি মোটামুটি বেশ ভাল দক্ষ ছিল। পরে আমরা মোটামুটি প্রায় ১০ জনের মতো একটি ব্যাচ মিলে তার কাছে শিখতে শুরু করি। ভাইয়া আমাদের বড় জোর ৪ থেকে ৫ টি ক্লাস নিতো আর সেটি ছিল আমার এক মাত্র ওয়েব ডিজাইন সেখার প্রশিক্ষন। পরবর্তীতে বিডিকম অনলাইন লিমিটেড নামের এক প্রতিষ্ঠানে ওয়েব ডিজাইনার হিসেবে জব পেয়ে যাই।

আর এটি ছিল আমার ডিজাইনার হবার গল্প।

আমি কখনোই একজন ক্রিয়েটিভ শিশু ছিলাম না, এবং এখনো নই, ইভেন আমার ৬ বছরের বাচ্চা আমার থেকে ভাল পেইন্ট করতে পারে। আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি, ডিজাইন হচ্ছে গনিত,নিয়মকানুন,এবং আপনার বুদ্ধিমত্তার সংম্রিস্রন।

I am a totally non-creative guy. I do practice very hard. Even today, I regularly practice. I do learn everyday. I know, the moment I stop learning, I am finished, I have no value.

My portrait by Avro (my son)

My portrait by Avro (my son)

আপনার প্রতিদিনকার কাজের অনুপ্রেরণা আসে কিভাবে?

আমি প্রতিদিন ডিজাইন করি না আর তাই আমার প্রতিদিন ডিজাইন করার অনুপ্রেনাও দরকার হয় না। আমি কোন আর্ট তৈরি করি না কিন্তু সমস্যা সমাধান করায় মাহির বলতে পারেন। এই তো আর এভাবেই চলে আমার ডিজাইনার লাইফ।

আরও একটি যায়গা আছে যেখান থেকে আমি আমার কাজের অনুপ্রেরণা পেয়ে থাকি। মানুষ সহানুভূতি, এটি সত্যি আমার জন্য ম্যাজিকের মতো কাজ করে।

আপনার সবথেকে পছন্দের ডিজাইনার কে এবং কেন?

সত্যি কথা বলতে আমি প্রায় সকল ডিজাইনারকেই খুব বেশী পছন্দ করি কারন তারা প্রায় সকলেই তাদের কাজে অনেক বেশী অভিজ্ঞ এবং তাদের এক একটি সৃষ্টি সত্যি মুগ্ধ করার মতো।

আপনারা যদি এখনো নিদিষ্ট কোন নাম জানতে চান তবে বলি, আমার সব থেকে বেশী ভাল লাগে ডোনাল্ড নরম্যানকে। সে একেবারেই গনাতুগতিক ধারার বাইরের একজন ডিজাইনার। যদি সম্ভব হয় তার করা প্রায় সব ডিজাইন এবং লিখা পরে ফেলা উচিত। আর আছে্‌ন ডিয়েটার র‍্যামস।

Don Norman

Don Norman

Dieter Rams

Dieter Rams

এমন কোন ডিজাইন টুলস আছে যেটি ব্যতীত আপনার চলা প্রায় অসম্ভব?

আপনি যদি ডিজাইন টুলস বলতে ফটোশপ/ইলুট্রুটর বা পেপার পেন্সিল বোঝান তবে আমাকে আপনি এগুলোর মধ্যে খুঁজে পাবেন না। কারন এগুলো শুধু মাত্র একটি টুলস এর বেশী কিছু না। ডিজাইন ব্যপার তা একটি ক্রিয়েটিভিটি যেটা আপনার ভেতর থেকে আসতে হবে, কোন টুলস দ্বারা এটি আদও সম্ভব না। সর্বোপরি আপনার বুদ্দিমত্তাই এখানে মুখ্য বিষয়।

To me brain (or thinking, forming, shaping) is the only tools I could not live without and it’s obvious why I can’t live without. I can’t cut off my head.

কোন ডিজাইন শুরু করার আগে কি আপনি সেটা স্কেচ করে নেন? কোন নতুন প্রোজেক্ট শুরু করার আগে সেটার অভিগমন কেমন থাকে? আপনার ডিজাইনের কর্মপরিকল্পনা কেমন হয়?

আমি কিন্তু আগেই বলেছি যে, আমি কোন প্রফেশনাল বা শিক্ষিত ডিজাইনার না। আর আমি খুব বেশী প্রয়োজন না পড়লে কখনো আঁকাআঁকি করি না। আপনারা আমারকে অনেকটা নোংরা ধরনের ডিজাইনার বলতে পারেন কারন খুব বেশী প্রয়োজন না পড়লে আমি কখনই আর সব প্রফেশনাল ডিজাইনারের মতো কর্মপরিকল্পনা ফলো করি না।

আপনার কাজের যায়গাটি কেমন?

আমি ডেক্সটপ কম্পিউটারে কাজ করতে পছন্দ করি সাথে আছে ২২ ইঞ্চি মনিটর, আছে পেন/পেন্সিল, নোটবুক, একটি টিস্যু বক্স এবং একটি পানির বোতল। আমার আছে আছে একটি হেডফোন এবং ক্লাইন্টদের সাথে মিটিং করার জন্য আছে এফোরটেক ওয়েবক্যাম।

আপনা কাজের জায়গা ব্যতীত ভিন্ন কোন স্থানে বসে কি কাজ করতে পারেন?

আমার কোন কাজে স্থান কন ভিন্নতা সৃষ্টি করে না কারন আমার কাজের সাথে আমার মনে হয় আপনি যদি বা আপনার যদি ক্রিয়েটিভ কিছু করার ক্ষমতা বা ইচ্ছা থাকে তবে স্থান সেক্ষেত্রে কোন মুখ্য বিষয় না। আপনি যেকোনো স্থানে বসে সেটি করতে পারবেন। চেষ্টা করুন আপনার আসে পাশের বিষয় গুলোর ওপরে বেশী বেশী নজর দিতে,

Don’t use mobile phone / Gadgets while doing this, be disconnected, and enjoy to moment.

কাজ করার সময় আপনি কোন ধরনের গান শুনতে পছন্দ করেন?

গানের ব্যপারে আমি বেস পছন্দ সই একটা মানুষ। কাজের সময় আমি বিভিন্ন ধরনের গান সুনতে পছন্দ করি যেমন, সময় সময় অনেক লাইট গান শুনি আবার অনেক সময় হেভি মেটাল গানও শোনা হয়ে যায়। আমার বাংলা ফোক গান, পুরনো দিনের গান, এবং ইন্ডিয়া ও পাকিস্থানের ক্লাসিক গান শুনতে ভাল লাগে।

আপনার সময় বাঁচানোর সেরা শর্টকাট বা লাইফহ্যাক কি?

এর আগেই বলেছি যে আমি অনেক অলস প্রকৃতির মানুষ। আমি একটানা ২৫ ঘণ্টা ঘুমতে পারি। আর ঠিক তেমনি আমি আমার ক্ষমতার বাইরে যেয়ে অনেক কিছুই করতে পারি। আমি আমার স্বভাব গুলো সত্যি অনেক খুশি সাথে এও বলতে হয় যে আমি একজন মানুষ কোন মেশিন না। তাই সময় সময় দ্রুত আবার সময় সময় আমি অনেক অলস। আমি অন্নানদের মত এতো সুপার ফাস্ট মানুষ হতে পছন্দ করি না আর আমি যেমন আছি আল্লাহ্‌র রহমতে অনেক ভালোই আছি। আমি যখন কাজ করি না তখন কোনভাবেই ইন্টারনেটের সাথে জুক্ত হইনা। আর স্মার্টফোনে যেটি আমি ব্যবহার করি সেটিকে খুব বেশী অপছন্দ করি।

আপনার পছন্দের টু-ডু লিস্ট ম্যনেজার কোনটি?

জিমেইলে টাস্ক ফাংশন কাজ করে। আর আমি সুধু সেটিই ব্যবহার করি আমার টু-ডু লিস্ট ম্যনেজার হিসেবে।

বাংলাদেশে বিশেষ করে ঢাকাতে ট্রাফিক জ্যাম নিত্যদিনের বিষয়। আপনি কি করে সেই সময়টি পার করেন যখন বিরক্তিকর ট্র্যাফিক জ্যামে বসে থাকেন?

আপনি সময়টাকে পুরোপুরি উপভোগ করার চেষ্টা করি এক বই পড়া আর দুই মানুষ কে রিসার্চ করার মাধ্যমে। একজন ইউএক্স ডিজাইনার হিসেবে এটা করা আমার দৈনিক কাজের ভেতরে পরে।

The more I will know peoples behavior, the more I will be able to solve their problem.

কম্পিউটার এবং মোবাইল ফোনে ব্যতীত এমন কোন গেজেট আছে কি যেটি ছাড়া আপনার চলা প্রায় অসম্ভব মনে করেন?

অবশ্যই না, একথায় বলতে গেলে আমি মোটেও গেজেট প্রেমী না যেমনটা আগেই বলেছি। গেজেট ব্যবহার করি শুধুমাত্র আমার কাজ গুলো সম্পাদন করার জন্য আর এর বাইরে আমি আর সবার মতো একজন স্বাভাবিক মানুষ। আবার একটি কথা না বললেই না সেটি হল, কম্পিউটার এবং মোবাইল ফোনের বাইরে আমি কিন্ডেল পেপার হোয়াইট ব্যবহার করি। কিন্তু এমন না যে এটা ব্যতীত আমার একেবারেই চলবে না।

আপনার সবথেকে ফলদায়ক সময় কোনটি বা এমন কোন সময় আছে কি যখন কাজ করলে সেটির ফলাফল সবথেকে বেশী আশানুরূপ পাওয়া যায়?

রাত ১২ থেকে ভোর ৪টা, তো এখন আপনারা বলতে পারেন যে এতো রাত্রে? কারনা আমি ঐ সময়ে কাজ করে করে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। আর সবথেকে ব্যর্থ সময় হল দুপুর ১টা থেকে ৩টা।

আপনার দৈনিককার ঘুমনোর সময়সূচি কেমন?

কিছুদিন হল আমি আমার ঘুমনোর রুটিন পরিবর্তন করেছি আর এখন রাত ১২ দিকেই ঘুমিয়ে পরি আর সকাল ৮.৩০ এর দিকে ঘুম থেকে উঠে পরি।

কোন কাজটিতে আপনি সবার থেকে একটু আলাদা, একটু ভালো?

  • আমি পড়তে পারি।
  • চেষ্টা করি সবসময় নতুন মুখের সাথে পরিচিত হবার। অবশ্যই পুরনো কাউকে ভুলে যেয়ে না।
  • আমি প্রায় প্রতিনিয়তই আমার পুরনো বন্ধুদের সময় দেই বা দেবার চেষ্টা করি।
  • নিঃসন্দেহে নতুন বন্ধু তৈরি করতে পারি।
  • যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে উত্তোলন করতে পারি।
  • যেকোনো বিষয়ের অনেক গভির পর্যন্ত ভাবতে পারি।
  • আমি বেশ খোলামেলা মানসিকতার একজন মানুষ আর যেকোনো ধরনের চিন্তা গ্রহন করার ক্ষমতা রাখি।

আপনার পাওয়া সেরা উপদেশ কোনটি ছিল?

গণনা করে শেষ করতে পারবো না। কারন আমি যাদের সাথেই কাজ করেছি তারা প্রায় সবাই আমাকে অনেক ভাল ভাল উপদেশ দিয়ে সাহায্য করেছে।

আজ তাদের অনুপ্রেরনার কারনেই আমি এতদুর আসতে পেরেছি। তবে একটি কথা না বললেই নয় সেটি হল আজকে থেকে প্রায় অনেকদিন আগে তাও প্রায় ১৫ বছর আগের কথা হবে। তখন কার সময় দৈনিক ইত্তেফাক খবরের কাগজের “প্রজন্ম” নামের কলামে একটি লিখা পরেছিলাম এবং তখন থেকে সেই লিখাটির প্রেমে পরে যাই। লিখাটি ছিল এমন-

If you want to gain skills on any subject, you have to have read/work on it at least 8 hours per day. Before spending 10000 hours on that particular subject, you can’t say yourself a specialist or you know that subject.

আপনার মতে এমন কোন তিনটি বই বা এবং মুভি আছে যেগুলো প্রায় সব ইউই/ইউএক্স ইঞ্জিনিয়ারের পড়া বা দেখা উচিৎ?

বই-

মুভি-

কোন কঠিন সময়ে নিজের কাজ করার আগ্রহ ধরে রাখতে আপনি কি করেন?

যতই কঠিন সময় আশুক না কেন আমি সেটি সামলে নিতে পারি। আর আমি মনে করি প্রায় প্রতিটা সমস্যারই একটি বিল্ট-ইন সমাধান আছে। যখন কোন সমস্যা আছে তখন সে সাথে করে একটি সমধান ও নিয়ে আশে। পার্থক্য হল আমরা কতটা দ্রুত সেই সমস্যার সমাধান বের করতে পারি সেটা হল মূল বিষয়। আর যখন আমি এমন কোন পরিস্থিতে পরি তখন সুধু কাজই করে যাই।

Pressure makes me super sensitive and I can do much more than the relaxed time, and the output is much better compared to other time.

আমাদের সাথে সেরা ৫টি ডিজাইন কোট শেয়ার করুন যেগুলো আপনার সবথেকে পছন্দের?

Constraints drive creativity.

Just enough is more. – Atlassian design principle

We (designers) solve problem, we don’t create art.

Good designers copy, great designers steal. – Publo Picasso

আপনার স্বপ্নের প্রোজেক্ট কোনটা ছিল এবং কেন?

আমি যখন আমার কাজ শুরু করি তখন থেকেই আমার সপ্ন ছিল যে এমন একটি কোম্পানিতে চাকরি করবো যেটার শুধুমাত্র নাম সুনলেই মানুষ চিনতে পারবে। যেমন ধরুন, মাইক্রোসফট বা গুগল ইত্যাদি। আমি ওয়াল্ট ডিজনির জন্য কাজ করেছি যেটার নাম হয়তো আপনারা সবাই শুনেছেন বা জানেন। যেটা আমার সপ্ন পুরন করেছে এবং ভবিষ্যতে আর এমন কোন সপ্ন নেই কারন আমি সেটা ইতিমধ্যে পুরন করে ফেলেছি।

বড় বড় প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে গেলে অনেক পজেটিভ এবং নেগেটিভ সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। বড় প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার স্বপ্ন পুরন করার পর আমি এখন একটি নতুন কাজ শুরু করেছি আর বর্তমানে এটি আমার স্বপ্ন।

আমি এমন একটি প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করতে চাই যেখানে মানুষ প্রতিদিন তার জীবন টা উপভোগ করতে পারে নিজের মতো করে। স্পেশালি গ্রামিন জনপদ। আর সৌভাগ্য বসতো আমি এখন এমনি একটি প্রোজেক্ট পেয়েছি যেটি একেবারে আমার সপ্নের সাথে মিলে যায়। একটি মোবাইল এগ্রিকালচার ভিত্তিক প্রোজেক্ট যেটি গ্রামিন জনপদের অনেক বেশী উপকারে আসবে। আমি চাই এই প্রোজেক্ট নিয়ে এমন ভাবে কাজ করতে যেটি আমার স্বপ্ন পুরনে অনেক দূর এগিয়ে যাবে। সাথে করে যাদের জন্য কাজটি করতে চাচ্ছি তাদেরও অনেক উপকারে আসবে।

mostaque-ahammed-dream-company

আপনার লোগো বা ডিজাইনের পেছনের গল্প গুলো কেমন?

আইডিয়া, আপনি কি এটা করতে পারবেন? হ্যাঁ অবশ্যই। কেন নয়। কাজটি করার জন্য সুধু দরকার একটু চিন্তা ভাবনা করা, কিছু সিগারেট, উৎসাহ, স্কেচ এবং একটার পর একটা চেস্তা করা কিন্তু বার বার ফেল করা এবং তারপর আবার সিগারেটে টান দিয়ে কাজটা পুনরায় শুরু করা। এবং ফলাফল সামনে দেখা।

আপনি যদি কখনো অ্যাপেলের কোন প্রোডাক্টের ডিজাইন করার সুযোগ পান তখন ঠিক কোনটি ডিজাইন করবেন?

আমি অ্যাপেল এর প্রোডাক্ট সম্পর্কে আরও বিস্তারিত পড়াশোনা করতে চাই কিন্তু আপাতোত তাদের জন্য কোন কিছু ডিজাইন করার ইচ্ছা নেই।

ভবিষ্যৎ ইউআই/ইউএক্স ইঞ্জিনিয়ার দের জন্য আপনার উপদেশ কি হবে?

আপনার যেটা করতে ইচ্ছে করে আপনি সেটা করবেন। এবং অবশ্যই একটি নিদিষ্ট লক্ষ ঠিক করে নিয়ে সেটির জন্য কাজ করে যাবেন। খুব ছোট সময়ের সপ্নকে অনেক বড় করে দেখতে শিখুন। অবশ্যই সফলতা পাবেন।

আপনি যখন কোন লোগো বা ডিজাইন তৈরি করেন তখন সেটি করতে আপনার কেমন সময় ব্যয় হয় এবং নিদিষ্ট কোন টুলস ব্যবহার করে কি আপনি সেটি তৈরি করেন?

এটা নির্ভর করে সেই প্রোজেক্ট আর আমার মানসিকতার ওপরে। কিছু লোগো ২ থেকে ৩ ঘণ্টার ভেতরেই করে ফেলি আবার কিছু লোগো তৈরি করতে প্রায় ১ সপ্তাহের মতো সময় লেগে যায়। লোগো তৈরি করতে আমি অ্যাডোবি ইলুস্ট্রুটর ব্যবহার করি আর ইউআই ডিজাইনের জন্য অ্যাডোব ফটোশপ বেশী ব্যবহার করা হয়। আমি কোন নিদিষ্ট ওয়ার্ক ফলো অনুসরণ করি না। যেটা মনে আসে সুধু সেটা করে যাই।

কোন নিদিষ্ট ডিজাইন বা লোগো তৈরি করার সময় সেটার রঙ পছন্দ করেন কিভাবে?

ইন্ডাস্ট্রি সেটা গেমস বা কর্পোরেট/ পুরুষ, মহিলা বা বাচ্চা/ ব্যবহার কারি, পরিবেষ, স্থান, লোগোটির তৈরি করার উদ্দেশ্য ইত্যাদি এই সব বিষয় মাথায় রেখে তারপর  লোগো বা ডিজাইন টি তৈরি করি।

code it girl

code it girl

code it girl

code it girl

বাংলাদেশের বর্তমান ডিজাইন কমিউনিটি সম্পর্কে আপনার মতামত কি যদি গত দিনের সাথে পার্থক্য করা হয় তবে?

গত দিনের তুলনায় বর্তমানে বাংলাদেশ ডিজাইন সেক্টরে অনেক ভাল করছে। আমরা যখন কাজ শুরু করি তখনকার দিন গুলো খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল কিন্তু বর্তমানে কেউ যদি ডিজাইন নিয়ে কাজ শুরু করতে চায় তবে সে নিঃসন্দেহে ভাল করতে পারবে।

বর্তমান কমেউনিটি থেকে তারা যে সাপোর্ট টা পাবে, অতিতে সেটা অনেক বিরল ছিল। বর্তমানে ফেসবুক পেজ, গ্রুপ এগুলো এতভাবে সবাইকে সাহায্য করে যেটি এই সেক্টরে আশা নতুন কোন মানুষ কে খুব দ্রুত উৎসাহিত করতে যথেষ্ট।

আমি মনে করি এই সেক্টর আরও দ্রুত এগিয়ে নিতে হলে আমাদের আরও কিছু কার করা প্রয়োজন যেমন আমরা যারা কমেউনিটিতে আছি তারা চাইলে প্রায় একটি করে ফিজিক্যাল কনফারেন্সের আয়োজন করা যেতে পারে। এতে করে নতুনদের বিকাশ আরও দ্রুত করা সম্ভব।

আর বই এর ব্যপারে আমি যেটা বলব সেটা হল বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বই ম্যানেজ করা খুব কষ্টসাধ্য ব্যপার বিশেষ করে ডিজাইন ভিত্তিক বই। তবে তারপরেও আপনি যদি সত্যিকারের একজন ডিজাইনার হতে চান তবে অবশ্যই আপনাকে বই পড়ার অভ্যাস করতে হবে।

আপনার সাথে অন্যান্য ডেভেলপারদের সম্পর্ক কেমন?

খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং কোন ধরনের স্বার্থ ব্যতিত। ইভেন আমার কো-ওয়ার্কার দের সাথেও আমার খুবই ভাল সম্পর্ক। এবং আমি যখন থেকে কাজ শুরু করি সেই ১০ বছর পুরনো মেট দের সাথেও বর্তমানে আমার সুসম্পর্ক বজায় আছে।

যদি ডেভেলপার এবং ডিজাইনার দের সম্পর্কের কথা বলেন তো আমি তাদের সাপোর্টে কাজ করি আর তাই আমার কাজ কখনোই শেষ হয় না। আমি মনে করি আমাদের কমেউনিটিতে একে অপরের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত এবং একে অপরের পরিপূরক আর তাই কেউ কাউকে ব্যতিত থাকতে পারবে না।

আমাদের একে অপরের সাথে মিলে মিসে কাজ করার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা আছে, তবে আমরা নিজেদের মধ্যে মিল রেখে কাজ করি যেমন আমি কখনো তাকে সুযোগ বা সুবিধা প্রদান করি আবার ঠিক সেও এই একই কাজটি আমার জন্য করে আর এই ভাবেই চলছে।

My point of view to the developers is Godlike. They can do anything with there keystrokes. They are the most amazing persons in the whole universe.

আপনার ড্রিবল সম্পর্কে মতামত কি? এটা কি একটা ভাল চাকরি পাবার জন্য সঠিক রাস্তা? আপনার মতে একজন ডিজাইনারের জন্য তার পছন্দের চাকরি পাবার সঠিক রাস্তা কোনটি?

একজন ডিজাইনার যদি তার পছন্দের চাকরি করতে চায় তবে তার জন্য সেটা খোঁজার থেকে নিজেকে সেটার জন্য তৈরি করাটা বেশী জরুরী। এটা আমার মতামত, আপনার যদি ভাল স্কিল থাকে তবে অবশ্যই জব আপনাকে খুঁজে নিবে আপনার কষ্ট করে জব খুঁজে বের করা লাগবে না।

তারপরেও আমার উপদেশ হবে, নিজের জন্য একটি ভাল মানের পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট তৈরি করুন যেখানে আপনার করা সব কাজের ডেমো থাকবে। আমি কখনোই তাকে একজন ভাল মানের ডিজাইনার মনে করি না যার একটি নিজের পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট নেই।

ড্রিবল একটি উত্তম মাধ্যম নিজেকে প্রমান করার। সাথে অবশ্যই একটি ভাল দিক একটি মনের মতো চাকরি পাবার। সর্বোপরি আপনার ব্যক্তিগত কাজের একটি স্যাম্পল সাইট বর্তমানে সময়ের প্রয়োজন।

আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে আপনার কি করার ইচ্ছা বা গোল কি?

বর্তমানে আমি যে কাজ গুলো করছি তার প্রায় সবগুলোই কমার্শিয়াল। বর্তমানে আমি তাদের সাথেই কাজ করছি যারা তাদের ওয়ার্কিং প্রোফিট আমার সাথে শেয়ার করছে।

আমি এর আগেও বলেছি যে, ভবিষ্যতে আমার এমন কোন প্রোজেক্ট নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা আছে যেটা সরাসরি গ্রামিন জনপদের উপকারে আসবে। যেসব জনপদ মূলত শহর থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছে তাদের জন্য আমার ভবিষ্যতে কিছু করার ইচ্ছা আছে।

শূন্যস্থান পুরন করুন, আমি এই একই প্রশ্নের উত্তর গুলো ______ কাছ থেকে শুনতে পছন্দ করব।

ইফতেখার আজম, টিএক্সপ্রো-আইটি  এর সিওও(সে আমার অন্যতম পছন্দের একজন ডিজাইনার)।

Iftekhar Azam

Iftekhar Azam

Shares