আমি নাছির বিন বুরহান, TrendyTheme এর প্রোডাক্ট ডিজাইনার
আমি যেভাবে কাজ করি

Shares

নাম এবং পেশা

নাছির বিন বুরহানTrendyTheme-এ প্রোডাক্ট ডিজাইনার হিসেবে কাজ করছি। পাশাপাশি ফ্রিল্যান্স ডিজাইনার হিসেবেও বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে কাজ করছি।

কবে কখন কিভাবে আপনি ডিজাইনের জগতে আসেন? আপনি কি ছোট বেলা থেকেই এমন সৃজনশীল ছিলেন বা নির্দিষ্ট একটি সময় পার হবার পরে এমন হয়েছেন?

ছোট বেলা থেকেই আর্টের প্রতি প্রচন্ড জোক ছিল।  মাদ্রাসায় পড়াকালিন আর্ট প্রতিযোগিতা গুলোতে শখের বসে নিয়মিত অংশগ্রহন করে পুরস্কার ছিনিয়ে নিতাম। আমার আর্ট ছিল সম্পূর্ণ কাগজ-পেন্সিলে। কম্পিউটারের সাথে আমার পরিচয়টা অনেক পড়ে।  তাই আর্ট বা ডিজাইন কে পেশা হিসেবে নেওয়া ছিল কল্পনার বাহিরে।

২০০৯ আমি যখন আলিম (এইচ এস সি) তে পড়ি। একদিন এক হুজুর ক্লাসে প্রশ্ন করলেন কে এমন আছো যে এখনো কম্পিউটারের পাওয়ার বাটনে হাত লাগাও নি। শুধু একজনই ছিল এমন। সে ছিলাম আমি। আর লজ্জা আমাকে সংগ দিয়েছিল। সে সময় থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত প্রতি মাসে কম্পিউটার জগত, সি-নিউজ, কম্পিউটার বার্তার নিয়মিত গ্রাহক ছিলাম। এগুলো পড়ার প্রতি নেশা হয়ে গিয়েছিল। তখন এই তথ্য-প্রযুক্তি জগতের সাথে ভালোবাসা হয়ে যায়। তথ্য-প্রযুক্তির উপর জ্ঞানকোষ প্রকাশনীর প্রায় সব বই কিনে পড়ার একটি অভ্যাস করে ফেলেছিলাম। পাশাপাশি বই + ম্যাগাজিনে পাওয়া বিভিন্ন টিপস/টিউটোরিয়াল গুলো সাইবার ক্যাফে গিয়ে প্র্যাকটিস করতাম।

২০১০ এর জুলাইয়ে বাবা কম্পিউটার + মডেম কিনে দেন। ততদিনে ডিজাইনার হওয়ার স্বপ্ন দেখা শুরু করি। আল-হেরার টিউটোরিয়াল ছিল আমার গ্রাফিক ডিজাইনের হাতেখরি। পড়ে ধানমন্ডিতে A & A Smart নামে একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয় ডিজাইন শিখার উদ্দ্যেশে। ২ দিন ক্লাস করে মনে হলো তারা ডিজাইন কি সেটাই জানে না। আবার ভর্তি হলাম মিরপুর ১০ এ অবস্থিত Web Solution নামের একটা প্রতিষ্ঠানেও কিছু সময় দিলাম কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। হতাশ হয়ে সাইবার ক্যাফে দিলাম। সকাল ৯টা থেকে  সাইবার ক্যাফে সময় দিয়ে সন্ধায় দোকানের সাটার অফ করে ভোর পর্যন্ত Tuts+, Youtube থেকে নিজে নিজে ডিজাইন প্র্যাকটিস করতাম। Themeforest + Awwwards এ নিয়মিত ভিসিট করতাম। সেখানে গিয়ে- সাইট কেন এমন হয়েছে, কোন সাইটে কি কি ইন্টারেকশন আছে, কি কি কিট ব্যবহার করছে, তা বের করে নোট করার অভ্যাস করে ফেলছিলাম।

10 Best Design এখানের প্রত্যেক্টা ওয়েব ফার্ম প্রজেক্টে গিয়ে কেস স্টাডি পড়তাম। সে সময় সাকিব নামে এক ফ্রেন্ড আমার সংগ দিয়েছিল। দুজনেই কাজ শিখতাম। একে অপরকে উৎসাহ দিতাম। এভাবে ২ বছর কেটে যায়, গাইড লাইনের অভাবে প্রফেশানল আগবাড়াতে পারছিলাম না । ২০১৩ তে ফেসবুকের ডিজাইন কমিউনিটির সাথে পরিচিত হয়। তখন মনে সাহস পায়।

২০১৪ তে বিহেন্সের ইভেন্টে জয়েন করার মধ্যদিয়ে ডিজাইনার হওয়ার সপ্নটা পুরোপুরি বাস্তবে রূপ দেয়। সেখানের প্রতিযোগিতার একটা ব্যপার ছিল। JoomShaper এর কাউসার ভাই একটা প্রতিযোগিতার আভাস দিয়েছিল। আর আমি সেটাকে মনে রেখে আমার কাজ করতে লাগলাম। ব্যপারটা এখন ছোট মনে হলেও সে সময় অনেক বড় ছিল। এর মধ্যে PeoplePerHour এ নিয়মিত কাজ করা শুরু করি। এখন মার্কেটপ্লেসের বাহিরে বিহেন্স + ড্রিবলের ক্লায়েন্ট এর কাজ করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। এই ছিল আমার  ডিজাইনার হয়ে উঠার বেরসিক গল্প ।

কোথায় থেকে আপনি প্রতিদিন ডিজাইন করার উৎসাহ পান?

আমি তেমন ক্রিয়েটিভ নই তবে  একটি সূত্র ফলো করি। “See creativity, Be creative” এই সূত্র অনুযায়ী সব জায়গাতে উৎসাহ খুজে বেড়াই।

সবচেয়ে বেশি যে জায়গা থেকে উৎসাহ পায় সেটা হলো প্রকৃতি। আমি হাটতে, চলতে, ঘুরতে চারদিকে আইডিয়া খুজি । তাই সাথে সব সময় নোট+পেন্সিল রাখি। যেন টুকে/এঁকে রাখতে পারি।

তাছাড়া উৎসাহ + আইডিয়া জেনারেট এর জন্য নিয়মিত কিছু ওয়েবসাইট ভিসিট করি।

তাছাড়া টুইটারে বিশ্বের বড় বড় ডিজাইন এজেন্সি ও ডিজাইনার দের ফলো করে রেখেছি। তাদের সমৃদ্ধ টুইটগুলো আরো উৎসাহ যোগায়। অনেক নতুন নতুন সমস্যার সমাধান খুজে পাই।

আপনার চোখে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ডিজাইনার কে?

অনেক কঠিন প্রশ্ন!! যদি প্রশ্নটা এমন হতো আপনার পছন্দের ডিজাইনার কে। তখন হয়তো কয়েকজনের নাম বলা যেত। কিন্তু সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ডিজাইনার? এটা কোন মানুষ হতে পারে না । আর্টিস্ট হতে পারে। আর্টি আর ডিজাইন এক নয়। আর্ট ডিজাইনের একটা পার্ট।  আমার মতে আর্ট আসে ফ্যন্টাসি থেকে আর ডিজাইন প্রবলেম সমাধানের জন্য, জীবন কে সহজ করার জন্য। সুতরাং দিন যত যাবে মানুষের জীবনকে সহজ করার জন্য তার তত উন্নতি ঘটবে। ইউএক্স তত সমৃদ্ধ হবে। Design can solve society’s biggest problems”   ডিজাইন মানে রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, পারিবারিক কাঠামোর ডিজাইন হতে পারে। তাছাড়া “সর্বকালের শ্রেষ্ঠ” কথাটির সাথে আমার আদর্শিক দন্ধ রয়েছে।

ডিজাইনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন পরে এমন টুলস বা সফটওয়্যারের নাম বলুন যেটি ছাড়া আপনার চলা প্রায় অসম্ভব এবং কেন?

যদিও প্রোডাক্ট ডিজাইনের ক্ষেত্রে টুলসের ব্যবহার শেষের দিকে। প্রথমে আইডিয়ার ইনফরমেশন কালেকশনের জন্য রিয়েল স্টিকি নোট, খাতা, পেন্সিল ব্যবহার করি। সফটওয়্যার হিসেবে আমি ফটোশপ নিয়মিত ব্যবহার করি। মাঝে মাঝে ইলাস্ট্রেটর ও বালসামিক ব্যবহার করি।

আপনি যখন কোন ডিজাইন করার জন্য মনস্থির করেন তখন ডিজাইনটি করার আগে স্কেচ বা ছবি এঁকে নেন নাকি সরাসরি কম্পিউটারে ডিজাইন করা শুরু করে দেন?

  • আমি ধাপ অতিক্রম করে কাজ সম্পন্ন করে থাকি। নিজের আইডিয়া নিজে কাজ করলে আগে আইডিয়াটা তার লক্ষ্য উদ্দেশ্যসহ পরিষ্কারভাবে ডাইরিতে নোট করি। তার পর আইডিয়ার উপর ডিপেন্ড করে একে একে ইনফরমেশন কালেক্ট করে স্টিকিতে নোট করে ফেলি। ইনফরমেশন কালেকশন + রিসার্চের জন্য প্রচুর সময় ব্যয় করি। তারপর খাতায় একাধিক স্কেচ করে সেখান থেকে যার ইউক্স ভালো মনে হয় সেটাকে ফটোশপ দিয়ে ডিজাইন করে ফেলি।
  • ক্লায়েন্টের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অবলম্বন করি। তবে আমার যে সব প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে ক্লায়েন্টের ক্লান্তি এসে যায় –
    • প্লানিং কেসঃ  তোমার লক্ষ্য কি ? (বিজনেস ও সেবার দৃষ্টিকোণ থেকে), কি সার্ভিস দিতে চাও? কেন?
    • ইউসার কেসঃ ব্যবহারকারী কারা, কেন ব্যবহার করবে, তাদের বয়স, কালচার, ইমোশন, কালার  ইত্যাদি নিয়ে পরিস্কার ধারনা নিয়ে নেই।
    • কনটেন্ট কেসঃ কি কনটেন্ট থাকবে, সেটা সংগ্রহ করবে কে? কোন পেজের জন্য কি কনটেন্ট থাকবে। কোন ধরনের ইন্টারেকশন সে চায়। তাছাড়া কি কি ফাংশন থাকবে। এক পেজ/স্ক্রিন এর সাথে আরেক পেজ/স্ক্রিন এর সম্পর্ক কি ইত্যাদি ইত্যাদি প্রশ্ন করে থাকি।
    • ডিভাইস কেসঃ কোন কোন ডিভাসের জন্য সে ডিজাইন করতে চায়? রিসপনসিভ হবে কি না!!
    • লেআউট কেসঃ কি ধরণের লেয়াউট চায়? ফ্ল্যাট, মিনিমাল, মেটেরিয়াল এবং ফুলওয়াইড , বক্স ইত্যাদি নিয়ে পরিস্কার ধারনা নিয়ে নেই ক্লায়েন্ট থেকে।

h3

কাজ করার সময় আপনি কোন ধরনের গান শুনতে পছন্দ করেন?

কাজের সময় কিছু একটা আমার না শুনলে কাজ জমে না। কিন্তু জমে গেলে কানে কি বাজছে তা খিয়াল থাকে না। নির্ধারিত কোন গান আমার পছন্দের তালিকায় নেই। Sami Yusuf , Meherzin এর গান একটু বেশি শুনি।

আপনার জীবনের টাইম সেভিং শর্টকাট অথবা লাইফ হ্যাক কি?

সর্টকার্টে কোন কাজ করতে পছন্দ করি না। ঠিক যতটুকু সময় দেওয়ার ততটুকু দেই। ক্ষেত্রবিশেষে বেশিও দেই যেন একই কাজের জন্য বার বার প্রবলেম ফেস করতে না হয়। সব কিছুকে সহজ ভাবে নিতে পছন্দ করি। আর যা করার ইচ্ছে হয় বা মাথায় আসে তা নোট করে ফেলি। নোট করতে যদি ভুলে যাই তাহলে সেটা আর হবে না। মনভুলা টাইপের মানুষ। মাঝে মাঝে ২ মিনিট পরে কি করবো তাও নোট করে রাখি।

প্রতিদিনের টু-ডু লিস্ট তৈরি করার জন্য কোন সফটওয়্যার/পন্থাটি আপনার কাছে সেরা মনে হয়?

এই ক্ষেত্রে রিয়েল স্টিকি নোট প্রথম পছন্দের। ২য় গুগল কিপ এবং ৩য় windows এর বিল্টইন স্টিকি নোট।

h6

একজন বাংলাদেশি হিসেবে যানজট আমাদের নিত্য দিনের সঙ্গী। আপনি যানজটের সময়টাকে সদ্ব্যবহার করার জন্য কী করেন?

লাইফে সব থেকে বেশি একাডেমিক বই ছাড়া যেসব বই পড়েছি তার ম্যাক্সিমাম যানবাহনে এবং যানজটে। এটা নিয়ে আলাদা কোন দুশ্চিন্তা মাথায় আসে না। এখন যানজটের সময়টাতে ইবুক নিয়ে ব্যস্ত থাকা একটা অভ্যাস করে ফেলেছি। যানবাহনের কিছু পড়লে তা মনে থাকে বেশি।

আপনার মোবাইল এবং কম্পিউটার ছাড়া এমন কী ডিভাইস ব্যবহার করেন যেটা ছাড়া আপনি থাকতে পারবেন না?

কম্পিউটার ছাড়া আমার পছন্দের ডিভাইস আইপ্যাড। পিডিএফ / ইবুক পড়ার জন্য এটা আমার ভালো বন্ধু। তবে মোবাইলে একটু বিরক্তিবোধ আছে।

দিনের ঠিক কোন সময়ে আপনি খুব মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারেন? আপনার দৈনিক ঘুমানোর সময়সূচি কেমন?

ফজর নামাজ পড়ে কাজ করতে বেশি পছন্দ করি। আমি এই সময়ে ভালোভাবে প্রবলেম সল্ভ করতে পারি। আর ঘুমের নির্ধারিত কোন সময় নাই। ১-৫ ঘন্টা ঘুমাই। সেটা কখনো কখনো বিরতি দিয়ে। অর্থাৎ ১-২ ঘন্টা করে ৫ ঘন্টা।

প্রতিদিন আপনার কাছে এমন কী মনে হয়, যে আপনি সবার থেকে আলাদা ?

  • যা মাথায় আসে তার এক্সপেরিমেন্ট করা।
  • বৈশ্বিক চিন্তা করা।
  • নগদ কোন কিছু পাওয়ার চেস্টা না করা।
  • সহজে মানুষকে আপন করে নেওয়া।
  • সহজেই সব কিছু ভুলে যাওয়া। অনেকটা শর্ট টাইম মেমোরি লস টাইপের।
  • সব কিছু নোট করে রাখা।

আপনার কাছে গুণীজনদের কাছ থেকে পাওয়া এখন পর্যন্ত সেরা উপদেশ কোনটি মনে হয়েছে?

বাবার একটি উপদেশই আমাকে আমাকে সব সময় উৎসাহ যোগায়। বাবা সব সময় বলেন-

তুমি পারবে বলে যা বিশ্বাস করো তা অবশই পারবে তবে নিষ্ঠার সাথে লেগে থাকতে হবে।

তিনটা বই এবং চলচিত্র নাম আপনি মনে করেন সব ডিজাইনারদের পরা এবং দেখা উচিত?

Don’t make me think, The Design of Everyday Things” সহ আরো অনেক বইয়ের নাম ইতিপূর্বে অনেকেই বলেছেন। সেগুলো সহ আমি আরো কয়েকটি যোগ করবো। বইঃ

মুভিঃ

এ সব মুভি/বই ছাড়াও আরো অনেক আছে যার প্রত্যেক্টা নতুন কোন ম্যাসেজ আমাদের দেয়। ডিজাইন জগতে নিজেকে আপডেট রাখার জন্য কিছু সাইটও নিয়মিত ভিসিট করি-

যেকোনো জটিল পরিস্থিতিতে নিজের কাজ করার মন মানসিকতা ঠিক রাখার জন্য আপনি কী করেন?

“জটিল পরিস্থিতি” একথাটি শুনতে খুবই অপছন্দ করি। যে কোন পরিস্থিতিকেই স্বাভাবিক ভাবে নেই। কখনো বিরক্তিবোধ/মন খারাপ হলে কুরআন তেলাওয়াত করি।

আপনি কিভাবে “User Interface” এবং “User Experience” পার্থক্য করেন?

  • কি, কেন, কার জন্য, কেমন, কিভাবে ও কখন ইত্যাদি প্রশ্নগুলি যদি যেকোন প্রোডাক্টের, ওয়েবসাইট, অ্যাপ সহ যে কোন  ক্ষেত্রে করা হয় তার উত্তরে যা হবে তা ইউএক্স। আর শুধুমাত্র “কি” এর উত্তরে যা হবে তা ইউআই।
  • ইউআই হলো ক্যাটবেরি চকলেট দোকান থেকে কিনার সময় যেটা হাতে নেই, দেখি। ইউএক্স হলো চকলেট বানানোর আইডিয়া, ভোক্তা কারা তা রিসার্চ, মার্কেট রিসার্চ, বানানোর প্রক্রিয়া, উপাদান, সুন্দর একটা ডিজাইনে তা উৎপাদন, প্যাক, বাজারজাত, টার্গেটেড ভোক্তার কাছে পৌছানো, বিক্রয়ে লাভ-লোকসান,  স্বাদ, খাওয়ার পর অনুভূতির সম্মিলিত রূপ।

আপনার ইউআই/ইউএক্স ইঞ্জিনিয়ার জীবনে এখন পর্যন্ত সব থেকে বড় অর্জন কোনটি?

বলার মত তেমন অর্জন এখনো নাই। সম্প্রতি ২টি একটি আইডিয়া নিয়ে কাজ করছি। সেটা যদি সফলতার মুখ দেখে তবে সেটাই হবে সব চেয়ে বড় অর্জন।

সবারই একটি স্বপ্ন বা ইচ্ছা থাকে ভবিষ্যতে একটি প্রতিষ্ঠান বা প্রোজেক্ট নিয়ে কাজ করার; আপনারও যদি এমন কোন স্বপ্ন বা ইচ্ছা থেকে থাকে তবে সেটি কী নিয়ে?

এই ক্ষত্রে আমিও ব্যাতিক্রম নই। সবার মত আমারও আছে। তবে আমি বিশ্বাস করি আমার অর্থ-সম্পদ যা আসার আসবে। সেটা কত সহজে ও দ্রুত আনা যায় তা নিয়ে কাজ করছি। ইনশাআল্লাহ বেচে থাকলে ৩০ বছরের মধ্যেই একটা জায়গায় পৌছাতে চাই। পরবরতি সময়টা সমাজ ও রাষ্ট্রকে দিতে চায়। সম্প্রতি ২ টা আইডিয়ার উপর কাজ করছি ৩ জনের ছোট একটি টিম নিয়ে। সময় হলে তা প্রকাশ করবো ইনশাআল্লাহ্‌।

আপনি যদি অ্যাপলের জন্য কোন অ্যাপস ডিজাইন করেন তবে সেটি কী হবে এবং কেন?

তাদের জন্য তাদের কোন অ্যাপস নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা নেই। আমি আমার প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করি। তাই নতুন ও ইনোভেটিভ আইডিয়া কিভাবে জেনারেট করা যায় তা নিয়ে চিন্তা করি।

আপনার মতে, বর্তমানে বাংলাদেশে ডিজাইন কমিউনিটির অবস্থান কেমন? ভবিষতে কেমন হবে বলে আপনি মনে করেন?

কমিউনিটির জন্যেই আজকে আমি ডিজাইনার। শুধু আমি না। বাংলাদেশের অনেক ডিজাইনাররাই মনে হয় এই কমিউনিটির কল্যানেই উঠে আসছে।

ডেভেলপার কমিউনিটির সাথে তুলনা করলে  ডিজাইন কমিউনিটির অবস্থান অনেক পিছিয়ে। এটা নিয়ে কাজ করতে অনেক ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও করতে পারছিনা। আমাদের দেশে ডেভেলপার কনফারেন্স হয়। ওয়ার্ডপ্রেসিয়ান গ্রুপ নিয়মিত ওয়ার্কশপ করে কিন্তু ডিজাইনার কমিউনিটিতে সেটা হচ্ছে না বিহেন্স-এর ২টা ইভেন্ট ছাড়া। কিছুদিন আগে আমরা কয়েকজন ডিজাইনের উপর ওয়ার্কশপ করার প্লান করেও পিছিয়ে আছি জায়গার অভাবে।

ইন্ড্রাস্ট্রির সিনিয়ররা এগিয়ে আসলে আমি/আমরা শ্রম দিতাম। তাতে আমি সহ নতুনরা একটা গাইড লাইন পেত, নতুন কিছু শিখতাম। পাশাপাশি ইন্ড্রাস্টিও ক্রিয়েটিভ ডিজাইনার পেত। তা না হলে একদিন ডিজাইনারের অভাবে ইন্ড্রাস্ট্রি মুখথুবড়ে পরবে। এখনই একজন ডিজাইনার খুজে পেতে অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। পরবর্তীতে কি হবে তা সহজেই অনুমেয়। আমাদের দেশের ডিজাইনারদের শিখার আগ্রহ প্রচন্ড। কিন্তু সঠিক নির্দেশনা + গাইড লাইনের অভাব। তেমন ভালো কোন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেনি। আর যে সকল প্রতিষ্ঠান আছে তারা নিজেরাও জানে না যে “হোয়াট ইস ডিজাইন”। তাছাড়া ডিজাইন নিয়ে অনেক মিসকনসেপ্টও আছে। যেমনঃ

সবাই মনে করে ফটোশপ ইলাস্ট্রেটর শিখলেই বুঝি ডিজাইনার হওয়া যায়। কোন পড়াশুনা লাগে না। তাই সবাই ফটোশপ ইলাস্ট্রেটর আগে গুরুত্ব দিয়ে শিখে। ডিজাইনের বর্ণমালা (বিজনেস কার্ড, ফ্লায়ার ইত্যাদি ) শিখেই হতাশ হয়ে ঝড়ে পরে।

h2

ডেভেলপারদের সাথে আপনার সম্পর্ক কেমন? আপনি কী তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করেন নাকি প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবে সব সময় কাজ করেন?

ডিজাইনার-ডেভেলপার একে অপরের অর্ধাংগি, কিন্তু পরিপূরক নয়। তাই তাদের সাথে বেরসিক সম্পর্কের কথা কল্পনাতীত।

“Dribbble” এর ব্যাপার এ আপনার কী মতামত? এটা কি ভাল মাধ্যম জব পাওয়ার জন্য? আপনার মতে কোনটি সবচেয়ে ভাল মাধ্যম ডিজাইনারদের জন্য জব পাওয়ার?

কাজ পাওয়ার সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো নিজেকে তার কাজের মাধ্যমে ব্র্যান্ডিং করা। ড্রিবল – বিহেন্স ডিজাইনারদের জন্য আশীর্বাদ সরূপ। যার মাধ্যমে নিজেকে বৈশ্বিক ভাবে ব্র্যান্ডিং করতে পারে। এগুলোতে সুন্দর ভাবে কাজকে উপস্থাপন করতে পারলে মার্কেট প্লেসে ঘুরতে হবে না। এ নিয়ে আমার একটা ইন্টারেস্টিং বিষয় আছে।

আমি Peopeperhour ও elance ছাড়া কোন মার্কেটপ্লেসে কাজ করিনি। আর এগুলোতে যা করছি তাও নিতান্তই কম। তার উপর বিড করে কাজ করছি মাত্র ১টি। বাকি সব বিহান্স ও ড্রিবল থেকে। আমি একটা বিষয় বিশ্বাস করি যে- আমি যদি যোগ্যতা রাখি তাহলে কাজ আমার বাসায় আসবে। পিছনে ঘুর ঘুর করবে। আমাকে কাজের পিছে ঘুরতে হবে না। কেননা প্রবলেম ক্লায়েন্টের আর সমাধান আমার কাছে। আমি কেন যাব তার পিছনে ঘুরতে?

যারা ভবিষ্যতের ইউএক্স ডিজাইনার হতে যাচ্ছে তাদেরকে আরও উৎসাহিত করতে আপনার উপদেশ কী হবে? ঠিক কিভাবে কাজ করলে তারাও একদিন আপনার মতো হতে পারবে?

  • কাজ বেশি করার চেয়ে শিখার প্রতি বেশি সময় দেওয়া।
  • কেউ সহায়তা না করলেও ধৈর্য ধরে লেগে থাকা।
  • নগদ ইনকামের প্রতি লোভের চেয়ে সমস্যার সমধানের দিকে লোভ করা।
  • ডিজাইনের প্রত্যেক্টি পার্ট নিয়ে নিয়মিত পড়াশুনা করা।
  • গুগল কে ইউজ করতে শিখা।
  • হিউম্যান সাইকোলোজি নিয়ে পড়াশুনা করা।
  • সববিষয়ে কমনসেন্স রাখা।
  • অন্যের কাজ দেখা।
  • নিজের কাজ অন্যকে দেখিয়ে মতামত নেওয়া। সেই ক্ষেত্রে ইগুকে ইরেজার টুল দিয়ে রিমুভ করার সক্ষমতা রাখা।

এভাবে বলতে থাকলে শেষ হবে না। :D

শূন্যস্থান পুরন করুন, আমি এই একই প্রশ্নের উত্তর গুলো ______ এর কাছ থেকে শুনতে পছন্দ করব।

 কাইসার ভাই,  জাহাঙ্গির রাজিব ভাই, দ্বীন মুহাম্মাদ সুমন ভাই

Shares