আমি ওয়াহিদ আজিজ চৌধুরী, কাজ সফটওয়্যার এর প্রতিষ্ঠাতা
আমি যেভাবে কাজ করি

Shares

নাম ও পেশা

ওয়াহিদ আজিজ চৌধুরী, কাজ সফটওয়্যার এর প্রতিষ্ঠাতা ।

কাজ সফটওয়্যার এর শুরুর দিকের গল্পটা আমাদের সাথে শেয়ার করুন, কিভাবে কাজ সফটওয়্যার এর জন্ম হল ?  

আসলে আমার কোম্পানি গঠন করার কোনো পরিকল্পনা ছিলো না। আমি ফিজিক্সে পড়েছি কারন আমি ফিজিক্স ভালোবাসতাম। পরে কম্পিউটেশনাল ফিজিক্সে মুভ করেছিলাম কারন কম্পিউটার আমার মজা লাগতো। তখন দেখা গেলো কম্পিউটারের অনেক চাকরি আছে তাই কম্পিউটিং-এর জবে ঢুকেছি।

কাজ সফটওয়ারের শুরুটাও অনেকটা এরকম। আমি ইংল্যান্ডে ছিলাম বেশ কিছুদিন, সেখান থেকে বাংলাদেশে আসার পরে আমি কিছু কনসালটিং জব করতাম নিজের খরচ জোগানোর জন্য। এটা ২০০৪ সালের কথা। এই কনসালটিং এর অংশ হিসেবে সিলিকন ভ্যালির একটা স্টার্টআপে সুযোগ পেয়ে যাই, তিন মাস কাজ করতে হবে, প্রজেক্ট ম্যানেজম্যান্ট সংক্রান্ত একটা কাজ। তিন মাসের পর ওরা ওখান থেকে কাজ করার অফার দিলো। কিন্তু আমার দেশে থাকার দরকার ছিলো কারন বাবা মা ছিলো একা আর বয়স্ক। তখন আমি ওদের সাথে বাংলাদেশে বসেই ফুল টাইম কাজ করা শুরু করলাম। কিছুদিন যাবার পর দেখা গেলো ওদের রিসোর্স লাগবে। ২০০৩-২০০৪ সালের টেকনোলজি বুমের সময় ওরা কিছু ভুল লোক নিয়োগ দিয়ে ফেলেছিলো। তো আমি এখান থেকে রিসোর্স নেয়া শুরু করলাম আর ওরা ওখান থেকে রিসোর্স ছাড়া শুরু করলো, বলা চলে একটা আউটসোর্সিং মডেলে চলে গিয়েছিলো।

কিছুদিন যাওয়ার পর বুঝলাম এভাবে কাজ করা ঝামেলার। তখন আমি চিন্তা করলাম, একটা কোম্পানির মত করি, যেখানে কয়েকজন ডেভেলপার থাকবে আর সাধারন আউটসোর্সিং কোম্পানির মত সার্ভিস দিবো। এভাবেই মূলত আমাদের কোম্পানি হিসেবে যাত্রা শুরু। আমরা ২০০৪ সালের জুলাই থেকে ভালোভাবে আরম্ভ করি, আমার বেডরুমে। শুরুতে আমরা ছিলাম চার জন, পরে আরো দুইজন নিয়োগ দিলাম, বেডরুমে আর আটলো না। তারপর আমরা ইস্কাটন মেইন রোডে একটা বাসা ভাড়া নেই। ততদিনে আমরা তিনটা প্রজেক্ট পেয়ে গিয়েছিলাম। তিনটাই ছিলো দীর্ঘ মেয়াদী। এর মধ্যে একটা এখনো চলছে – প্রায় ১১ বছর ধরে।

এরপর কোম্পানির একটা নাম দরকার পড়লো। কি নাম দেয় যায় এটা নিয়ে চিন্তা করতে গিয়ে প্রশ্ন উঠলো আমরা কি কাজ করি? দেখা গেলো আমরা “কাজ” করি ! ঠিক আছে তাহলে কোম্পানির নাম “কাজ” হতে পারে। এভাবেই কোম্পানির নাম “কাজ সফটওয়ার” রাখা হয়েছে।

আমাদের প্রোডাক্ট অনেক সময় ব্যর্থ হয়। তখন কি করা উচিৎ? প্রোডাক্টে লেগে থাকা উচিৎ না আউটসোর্সিং সার্ভিস দেয়া উচিৎ? আপনার অভিজ্ঞতা থেকে বলবেন।

প্রথম কথা হচ্ছে, ফান্ডিং এখানে একটা বড় বিষয়। সফটওয়ার স্পেসে একটা প্রধান ব্যাপার হচ্ছে, যদি প্রোডাক্ট আইডিয়া ভালো হয় তাহলে একটা না একটা সময় এটা সফল হবেই। মার্কেটিং, ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোন বা আইডিয়া্য় নতুনত্ব থাকলে তাড়াতাড়ি হবে অথবা এগুলা না থাকলে পরে হবে। যদি আমার ফান্ডিং থাকে তাহলে প্রাথমিক ব্যর্থতা শুধুই একটা পরিমাপক মাত্র যেটা দিয়ে বোঝা যায় যে আমার কি কি করা উচিৎ ছিল কিন্তু করতে পারি নাই, তবে যেহেতু ফান্ডিং আছে আমি প্রোডাক্ট কে সামনে এগিয়ে নিতে পারবো। যদি ফান্ডিং না থাকে তাহলে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যেহেতু সার্ভিস একটা পসিবল অপশন, অবশ্যই ভারসাম্য বজায়  রেখে কাজ করা উচিত। তা না হলে আমি এক সময় টিকেই থাকতে পারবো না।

একটা পর্যায়ে টাকা-পয়সা এত গুরুত্বপূর্ন হয়ে দাঁড়ায় যে আমার প্রতিদিনের জীবিকার তাগিদেই হয় আমার স্বপ্নটা বাদ দিতে হবে অথবা চাকরিতে ঢুকতে হবে। যদি আমার মূল পরিকল্পনা থাকে যে আমি একটা কোম্পানিই দিব বা প্রোডাক্ট বানাবো এবং ফান্ড শেষ হয়ে যাচ্ছে তাহলে কোম্পানির একটা আউটসোর্সিং বা সার্ভিস দৃষ্টিকোন থাকাটা খুবি যুক্তিযুক্ত, বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে অবশ্যই করা যায়। তবে মনে রাখতে হবে যেনো সেটাতে ফোকাস দিতে গিয়ে আমার প্রোডাক্টাই গৌণ হয়ে না দাঁড়ায়। আমি যদি প্রোডাক্ট-ই চাই তাহলে সব সময় সেটা ফোকাসে রাখতে হবে ।

আপনার মতে, একটা সফটওয়্যার কোম্পানি নিজস্ব প্রোডাক্ট থাকা কতটা জরুরি ?

কারন শেষ পর্যন্ত প্রোডাক্ট-ই সবচেয়ে বেশি লাভজনক। সাফল্য যদি আমারা  মুনাফা দিয়ে পরিমাপ করি, উদ্যম বা আত্মতৃপ্তি দিয়ে পরিমাপ করি তাহলে সবকটাতেই প্রোডাক্টটিেকই পায়। আউটসোর্সিং বা সার্ভিস সেক্টর-ও পায় তবে এর একটা সীমানা আছে, প্রফিট একটা লেভেল পর্যন্ত। সার্ভিসে অবশ্যই অনেক স্থিতিশীলতা আছে কিন্তু মানসিক  প্রশান্তি ভিন্ন হয়। ব্যক্তিগত ভাবে কাস্টমারদের সাহায্য করতে পেরে আমি খুবি আনন্দিত হই। মনে হয় যেনো তাদের সাফল্যই আমার সাফল্য। সার্ভিস ভালো কিন্ত যদি প্রোডাক্টের সাথে তুলনা করা হয় – প্রোডাক্টের যে আনন্দ বা প্রোডাক্টের যে ক্ষমতা সেটা অনেক বেশি, এটা অনস্বীকার্য। এটা অনেকটা একটা ফেরারী চালানো আর একটা টয়োটা গাড়ি চলানোর ভিন্নতার মত।

কাজ সফটওয়ারের বয়স তো প্রায় ১২ বছর। এত দীর্ঘপথ চলায় নিশ্চয়ই অনেক অপ্রত্যাশিত অবস্থা বা ব্যর্থতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। সেগুলো কি আমাদের সাথে শেয়ার করবেন? নতুন যারা সফটওয়্যার কোম্পানি দিতে চাচ্ছে তাদের প্রতি উপদেশ কি হবে ?

আমি খুব ভাগ্যবান যে আমাদের কখনই বড় রকমের ব্যর্থতা্র ভিতর দিয়ে যেতে হয় নি। নতুন যারা শুরু করতে যাচ্ছে তাদের বলব যে, অবশ্যই ভাগ্যের উপর নির্ভরশীল না হতে। আমি যে ভুলগুলো করেছি বা এখন সুধরানোর চেষ্টা করছি, যেগুলো শুরুর দিকে করতে পারলে ভালো হত তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে অবশ্যই একটা ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া দাঁড় করানো। আমরা ভাগ্যের উপর দিয়ে চলে গেছি কিন্তু এটা হওয়া উচিত ছিলো না।

আমাদের অবশ্যই একটা ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া দাঁড় করানো উচিত ছিলো, মার্কেটিং , প্রমোশন  এবং  অ্যাডভারটাইজিং করা উচিত  ছিলো। এটা যে শুধু  সার্ভিসের  জন্যই  জরুরী তা না, প্রোডাক্টের জন্য-ও একইভাবে প্রযোজ্য। আমাদের কিছু স্ট্যান্ডার্ড প্রসেস অনুসরন করা দরকার ছিলো যেমন নেটওয়ার্কিং করা, ইনভেস্টরদের সাথে যোগাযোগ করা, তাদের কাছে প্রোডাক্ট তুলে ধরা, ট্রেড ফেয়ারে যোগ দেয়া  ইত্যাদি। এসব আসলে প্রথম থেকেই করা দরকার। তাহলে ভাগ্যের পরিমান কমে যায় আর ব্যবসাটা অনেক নিয়ন্ত্রিত হয়।

কাজ সফটওয়্যার এর মেম্বাররা খুব সুখী থাকে বলে পরিচিতি আছে। তারা দীর্ঘ সময় কাজ করতে পছন্দ করে। বাংলাদেশের অন্যান্য কোম্পানির সাথে যদি তুলনা করা হয় তাহলে এটা কিভাবে সম্ভব হয় ?

আমাদের কোনো সিক্রেট নাই। একদম প্রথম দিন থেকেই আমরা প্রচার করার চেষ্টা  করেছি যে আমাদের মতে This is the only way of doing things. বাংলাদেশের অন্যান্যরা কে কিভাবে চলতো বা এখনো চালায় তা আমি জানি না,

সফটওয়্যার জন্য উদ্ভাবন দরকার। উদ্ভাবনের জন্য  মানুষের স্বাধীনতা দরকার, চাপ কমানোর দরকার। কোম্পানির কর্মপরিবেশ, নীতি, প্রতিদিনের কাজ-কর্ম এমন হতে হবে যেনো নতুনত্ব বৃদ্ধি পায়, নতুনত্বের জন্য যা যা লাগে তা যেনো ঠিক হয়।

এজন্য আমরা খুব সাধারন কিছু জিনিস করেছি যেটা এখন দেখে মনে হতে পারে যে এটাতো এভাবেই হওয়া উচিত কিন্তু ২০০৪ সালের দিকে খুব অস্বভাবিক ছিলো।

যেমনঃ আমরা কাজ আর জীবনের ভারসাম্যের ব্যাপারে সবসময় খুব জোর দেই। যদি দেখি যে ,কোনো প্রজেক্টের জন্য এর রিসোর্সদের নিয়মিত রাত করে থাকতে হচ্ছে তার মানে এই প্রজেক্টে বড়সড় সমস্যা আছে। এই প্রজেক্ট চলতে পারে না, নিঃশেষ হয়ে যাবে। ২০০৪ সালের দিকে ট্রেন্ড ছিলো যে, যত লেট করে কাজ করবে তত আসলে ভালো। প্রকৃতপক্ষে পুরো উলটা লজিক।

আমি যত লেট করে কাজ করবো আমার ব্রেন তত বেশী বার্নআউট করবে আর  পরদিন আমি তত বেশি খারাপ কাজ করবো।

আমাদের আরেকটা কঠোর নিয়ম হচ্ছে, সাপ্তাহিক ছুটিতে কোনো কাজ করা যাবে না ,যদি না কোনো অতি জরুরী কাজ পরে যায়।  আমরা একটা আন্তরিক পরিবেশ রাখার চেষ্টা করি। আমরা প্রথম থেকেই চেষ্টা করেছি যেনো আমাদের সম্পর্ক গুলো খুব ফ্রি হয়, কোনো বড়-ছোট ভেদাভেদ না থাকে, সবাই সবার ভুল ধরতে পারে। এটাতে দুটা লাভ হয়। প্রথমত, মেম্বারদের কাজ করতে খুব ভালো লাগে; মনে হয় না যেনো কোনো অযৌক্তিক নিয়মের মধ্যে বসবাস করছি আর দ্বিতীয় হচ্ছে কাজ এর মান খুব বৃদ্ধি পায়, আমার শিখি অনেক বেশি। আমরা সুযোগ পেলেই বেড়াতে যাই, পার্টি করি। আমারা সম্ভবত প্রথম সফটওয়্যার কোম্পানি যারা একটা ট্রেন্ড চালু করি যে বছরে একবার বাইরে বেড়াতে যাবো। এ ধরনের বিষয় গুলো আমদের একটা বন্ধুসুলভ সংস্কৃতি তৈরী করতে সাহায্য করেছে। শুরুতে অনেকেই বলেছে এভাবে একটা কোম্পানি কোনোদিন টিকে থাকতে পারে না। কিন্তু প্রায় ১২ বছর হতে চলছে, so I can say I have proved my point.

ইন্ডিয়া ভ্রমন

ইন্ডিয়া ভ্রমন

এখানকার মেম্বারদের মনিটরের পর্দা দেয়ালমুখী । এর কারন কি ?

আমাদের নীতি হচ্ছে ডেভেলপার এর স্ক্রিন দেখা যাবে না।  ডেভেলপার এর পিছন দিয়ে আসতে পারবে না, সবসময় তার সামনে দিয়ে আসতে হবে। সে যেন না বোধ করে তাকে পিছন দিক থেকে পর্যবেক্ষন করা হচ্ছে। তার সবসময় স্বাচ্ছন্দ্য থাকে। সে তার বিবেচনা দিয়ে কাজ করবে – এই মূহুর্তে যদি তার ব্রেন কাজ না করে, ফেসবুকে যেতে চায়, যাবে। কারন তার নিজস্ব কর্তব্যবোধ আছে। সে জানে তার কি করতে হবে।

এখন অনেক কোম্পনি এরকরম আন্তরিক পরিবেশ, নমনীয় নিয়ম-নীতির সুফল দেখে সেগুলো অনুসরন করার চেষ্টা করছে । কিন্তু ২০০৪ সালের দিকে আপনি কিভাবে শুরু করলেন ?

আমি আসলে কপি করছি। আমি কপি করেছি গুগলের কর্মপরিবেশকে। আমার খুব প্রিয় একটা মানুষ হচ্ছে Joel Spolsky. তার একটা ব্লগ আছে  যেটা এক সময় প্রতিদিন অবশ্যই পড়তাম। একটা সফটওয়্যার কোম্পানি কিভাবে চালানো উচিত, একটা সফটওয়্যার প্রোডাক্ট কিভাবে বিল্ড করা উচিত এসব নিয়ে অনেক লিখলেখি করেছে। ওর একটা সুন্দর লজিক ছিলো যেটা আমার দারুন পছন্দ হয়েছিলো। ওর কোম্পানিটা শুরু করেছিল এই লজিক দিয়ে, “আমাদের আইডিয়া নাই। কিন্তু আমি যদি খুব মেধাবী লোকদের এক সাথে করতে পারি আর সুখী কর্মপরিবেশ দিতে পারি তাহলে তারা কিছু একটা অবশ্যই করবে যেটাতে আমার লাভ হবে”।Wahid image with team

কাজ সফটওয়্যার এর নিজস্ব একটা ব্লগ আছে যেটা অনেক সমৃদ্ধ। ব্লগিং বাংলাদেশের খুব কম সফটওয়্যার কোম্পানিই করে। এটা নিয়ে কিছু বলেন।

আমাদের ব্লগিং-এর বড় একটা পজিটিভ দিক হচ্ছে You spread the word. যেসব কথা বলতে ইচ্ছে হলো দিয়ে রাখলাম, কেউ পড়তে চাইলে পড়লো। তাছাড়া মার্কেটিং ভ্যালু আছে, সার্চ ইঞ্জিনে সাহায্য করে। এটা ব্যবসার জন্য ভাল।

একজন CTO হিসেবে কিভাবে কাজ গুলো টিম মেম্বারদের মাঝে ভাগ করে দেন। কাজ যদি ঠিক সময়মত শেষ না হয়, তখন কি করেন? কি পদক্ষেপ নেন যাতে পরবর্তিতে সময়মত শেষ হয় ?

একজন CTO’র কাজ হচ্ছে, তার যে টিমগুলো আছে তারা ঠিকমত অপারেট করতে পারছে কিনা তার নিশ্চয়তা প্রদান করা। আমার মতে একটা CTO আর একটা হোটেল এর ম্যানেজার-এর একই রোল।  তার দেখতে হবে এমন কোনো বিষয় আছে নাকি যার জন্য তার টিমগুলো ঠিকমত কাজ করতে পারছে না  যেমনঃ তাদের কম্পিউটার আছে নাকি, এসি-টা ঠিকমত কাজ করে নাকি, বাথরুমে পানি আছে কিনা এইসব। আমার মতে CTO এই রোল টা পালন করলে টিমগুলোর এসব উটকো ঝামেল নিয়ে চিন্তা করতে হয় না।

একজন নন-টেকনিকাল ম্যানেজার এর জায়গায় একজন  CTO’র এই বিষয় গুলো দেখা ভালো কারন একজন নন-টেকি ম্যানেজার পানির সমস্যা বুঝবে কিন্তু একটা ডেভ টীম আজকে কেনো ব্রেক চায়, তা বুঝবে না।

এরসাথে অবশ্যই একজন CTO ট্যাকনিকাল এডভাইস গুলো দিবে কারন সে টেকনলজি সম্পর্কে ভাল জানেবে। আমি এখনো যেটা করি, প্রজেক্ট এর টেকনলজি  রিকয়ারমেন্ট দেখে নির্ধারন করি কোণ টিম এর কাছে এটা যাওয়া উচিত। সবগুলো টিম এর স্কিলসেট, প্রকৃতপক্ষে লীডদের স্কিল সম্বন্ধে তার ধারনা থাকা দরকার।

ডেডলাইন এর ব্যাপারে বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হয় ডেডলাইন মিট হচ্ছে না এটা শেষ মুহূর্তে জানতে পারা একজন CTO’র বড় ব্যর্থতা। আমরা প্রতি সপ্তাহে টিম এর সাথে একবার মিটিং করি, যেখানে টিম এর ভিতরেরে সমস্যা গুলো জানা যায় যেমন ডেডলাইন। একজন CTO’র প্রাথমিক দায়িত্ব হচ্ছে ডেডলাইন ঠিকমত পালন না করতে পারার সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে আগে থেকেই জানা এবং সেগুলো সমাধান করা। যেমন অতিরিক্ত রিসোর্সের ব্যবস্থা করা, ক্লায়েন্ট এর সাথে কথা বলে পুরো ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করা। এটা সার্ভিস সেক্টরের জন্য খুব দরকারি – ক্লায়েন্ট এর কাছে সমস্যা লুকিয়ে না রাখা। বিপদে পরলে ক্লায়েন্টকে সাথে সাথে জানাতে হবে যাতে সেও ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে।

আর এত কিছুর পরেও ভুল যদি হয়েই যায়, তাহলে আমার নীতি হচ্ছে retrospective করা। যেখানে আমরা খোলাখুলি ভাবে আলোচনা করার চেষ্টা করি যে কেনো এই ভুলগুলো হয়েছিলো।  যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে এখন টিমের ভিতর সম্পর্ক নষ্ট করে লাভ নাই। CTO’র রোল এখানে খুব দরকারি যাতে এটা কোনো পারস্পারিক দোষারোপের খেলায় পরিনত না হয়।

বাংলাদেশের অফিস টাইম সাধারনত ৯টা থেকে ৫টা। কিন্তু কাজ-এর টাইম ১১টা থেকে ৭টা। এর কারন কি ?

আসলে আমাদের প্রযুক্তি জগতে সবাই মোটামুটি একটু রাত জাগি। এটা শুধু বাংলাদেশেই না আমি পশ্চিমা বিশ্বেও একি রকম দেখেছি। আমাদের রাত জগার প্রবনতা বেশি আর তাই সকালে দেরি করে উঠতে হয়।

আমরা সফটওয়্যার শিল্পে এই বিলাসিতাটা করতেই পারি কারন আমাদের আসলে বাংলাদেশের অফিস টাইমের সাথে খুব বেশি অপারেট করতে হয় না। ব্যাংকের টাইমের সাথে একটু মিলিয়ে করতে হয় এই আর কি। কিন্তু সরকারী অফিস ৯টায় খোলে, ওদের সাথে আমাদের অনেক কাজ আছে, দুঘন্টা পরে আসলে অনেক সমস্যায় পরতে হবে – এরকম কিছু নাই। প্রফেশনের সাথেও ফিট করে আবার ব্যবসার-ও ক্ষতি হয় না, তাহলে কেনো নয় !

কাজ সফটওয়্যার এর কর্মপরিবেশ অন্যতম সেরা ধরা হয়। ইতিমধ্যেই একটা প্রশ্নের উত্তরে আংশিকভাবে বর্ননা করেছেন। এই আন্তরিক, বন্ধুবৎসল পরিবেশ দীর্ঘদিন ধরে রাখার মূল মন্ত্র গুলো কি ?

এই বিষয়ে আমাদের ব্লগে অনেক লেখালেখি করেছি। প্রথমত,

ডেভেলপারদের ইগো একটা বড় সমস্যা। আমার কোড সবার চেয়ে সেরা বা আমি অসম্ভব ভালো, ও কিছু পারে না – এই সব কারনে একটা সফটওয়্যার কোম্পানিতে সম্পর্কগুলো খুব সহজেই খারাপ হয়ে যেতে পারে।

এটা যদি নিয়ন্ত্রন করা যায়, তাহলে বাকি সবকিছু অনেক সহজ হয়ে দাঁড়ায়। আমারা শুরু থেকেই চেষ্টা করেছি, কেউ যেনো নিজেকে অতি গুরুত্বপূর্ন না ভাবে, বিশেষ করে সিনিয়র বা টিম লীডরা। এই কোম্পানির সবারই দর্শন হচ্ছে, আমি আমার ছোট সহকর্মীদের এমন বোধ করাবোনা যে, আমি অনেক বেশি জানি তার থেকে। দ্বিতীয়ত,

বিপরীতভাবে আমাদের তরুণ মেম্বারদের উৎসাহিত করি যাতে তারা ওই বাঁধাটা ভাঙতে পারে।

এ জন্য খাবার টেবিলে বা খেলার মাঠে আমরা তাদের সুযোগ দেই সিনিয়রদের পচানোর – সহজ বাংলায় বলতে গেলে। যখন দেখা যায় সম্পর্কগুলোর মধ্যে আমার স্যার, আমার সিনিয়র এরকম কাঠিন্য নাই তখন বন্ধুবৎসল পরিবেশ  অনেক সহজ হয়ে যায়।

উদ্যোক্তাদের বড় একটা সমস্যায় পরতে হয় পার্টনার নির্বাচন করা নিয়ে। এই বিষয়ে আপনার পরামর্শ কি ?

আমার সুবিধা হচ্ছে আমার কোনো পার্টনার নাই ! আবার বলতে গেলে সবাই আমার পার্টনার। ব্যবসায়িক পার্টনার আমার কখনো ছিলো না তাই এটা কেমন হওয়া উচিৎ এই উত্তর আমি দিতে পারবো না, তবে প্রাতিষ্ঠানিক পার্টনার নির্বাচন করার জন্য প্রথমেই দেখি সে আমার মত নাকি। এটা খুবি গুরুত্বপূর্ন কারণ আমার মত না এরকম কারো সাথে শেষ পর্যন্ত আমার ঝামেলা বাঁধবেই। সবাই যখন মিলেমিশে কাজ করবো তখন গ্রুপের চিন্তাধারা এক হতে হয়। সেজন্য সব সাক্ষাৎকার বা আলোচনায় আমারা খেয়াল করি যে মানুষটার চিন্তা আমাদের মত একরকম না ভিন্ন। ইংরেজিতে বলতে গেলে “Fit” হয় কিনা। Fit না হলেই আলোচনায় ঝগড়া লেগে যাবে আর সেটাই সবচেয়ে বড় ঝুঁকির বিষয়।

কাজ সফটওয়্যারের ভিশন কি? এই ভিশনের সাথে সবাই কিভাবে একমত হয় ?

এই জায়গায় আমার ব্যর্থতা আছে, আমার আসলে তেমন কোনো ভিশন নেই! তবে ভিশন দেয়াটা খুব জরুরী নিজের জন্য, কোম্পানির জন্য। তবে একটা ভিশন যা হয়তো আমি মুখে কখনো বলি নাই কিন্তু সফলভাবে সঞ্চালন করতে পেরেছি তা হচ্ছে – we want to be different, center-of-excellence, better than everybody else. We want to be known as the best.

এটা যদিও আমি মৌখিক ভাবে বলি না কিন্তু আমাদের প্রতিটা কাজে এটা  লুকানো আছে।  প্রতিটা পদক্ষেপেই আমারা এটা চেষ্টা করেছি যে, আমারা আর দশটা সাধারণ সফটওয়্যার কোম্পানির মত হতে চাই না। We want to be world class, not just code monkeys. আমারা এত সৃজনশীল হতে চাই যেনো  সার্ভিস সেক্টরে বাইরের কেউ যখন কাজ দিবে তখন মনে মনে বলবে, এরা এত ভালো কি করে? আমেরিকা বা পশ্চিমে এরকম রিসোর্স খুজে পাই না কেনো? প্রোডাক্টের ক্ষেত্রে তো অবশ্যই – আমরা বেস্ট প্রোডাক্ট তৈরি করতে চাই। সংক্ষেপে বলতে  গেলে  Being the best in profession এটা কোম্পানির মাঝে প্রসার করা।

প্রতিদিনের কাজ সম্পাদনের জন্য কি ধরনের সিস্টেম ব্যবহার করেন ?

মেইলের জন্য আউটলুক। টাস্ক ম্যানেজম্যান্ট-এর জন্য বিভিন্ন গ্রুপ বিভিন্ন রকম সিস্টেম ব্যবহার করে যেমনঃ

প্রতিদিনের কাজ বিন্যস্ত করার জন্য আমরা মৌখিক যোগাযোগকে প্রাধান্য দিই, একটা অফিসিয়াল মেইল পাঠানোর চাইতে। সেটা পরবর্তীতে ইস্যু ট্র্যাকারে চলে যায়।

একজন বাংলাদেশি হিসেবে যানজট আমাদের নিত্য দিনের সঙ্গী। আপনি যানজটের সময়টাকে সদ্ব্যবহার করার জন্য কি করেন ?

আমি সাইকেল চালাই, যানজট আবার কি জিনিস !

আপনার কাজের স্থানটি কেমন ?

খুবই অগোছালো।

IMG_0803

আপনার দৈনিক ঘুমানোর সময়সূচি কেমন ?

আমার আট ঘন্টা ঘুম লাগেই। সাধারনত রাত ২টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত।

একজন উদ্যোক্তার কোন তিনটি বই বা সিনেমা অবশ্যই পড়া বা দেখা উচিৎ ?

  • Peopleware –উদ্যোক্তাদের জন্য প্রথমেই এই বইটা পড়তে হবে। এটা না পড়লে সফটওয়্যার উদ্যোক্তা হওয়াই উচিৎ না।
  • The Mythical Man-Month –এটা শেখায় যে শুধু মানুষ বাড়ালেই হয় না, এই টিম এর মধ্যেই আপনাকে  কিছু করতে হবে।
  • Design Patterns
কাজ সফট এর লাইব্রেরী

কাজ সফট এর লাইব্রেরী

বাংলাদেশে যারা সফটওয়্যার কোম্পানি খুলতে চাচ্ছে তাদের জন্য আপনার উপদেশ কি হবে?

আমি বলবো বাংলাদেশ একটা  জায়গা যেখানে  সফটওয়্যার কোম্পানি দেয়া যায়। বাংলাদেশে  সফটওয়্যার কোম্পানির জন্য অবারিত সুযোগ রয়েছে। কারণ আমাদের সর্বদাই একটা ব্যাকআপ আছে, আউটসোর্সিং। আউটসোর্সিং ভালো একটা ব্যবসায়িক মডেল যা বাংলাদেশে বজায় রাখা যায়। এটা সিলিকন ভ্যালির মত জায়গায় খুব কঠিন, কারণ সেখানে প্রোডাক্টই সব। প্রোডাক্ট কোনো কারনে মার খেলে সব শেষ। কিন্তু বাংলাদেশে এরকম হলেও বেঁচে থাকা যায়। এছাড়াও যথেষ্ট রিসোর্সের-ও অভাব নাই বাংলাদেশে।

এমন কোনো প্রোজেক্ট বা প্রোডাক্ট আছে কি যেটি নিয়ে আপনি গর্ব বোধ করেন ?

আমাদের প্রথম প্রোডাক্ট ছিলো TME (Tax Management Enterprise). এই টিমটা এখন আলাদা হয়ে অন্য একটা কোম্পানি করেছে। এটা এখন মাল্টি মিলিয়ন ডলারের একটা স্টার্টআপে পরিনত হয়েছে। শুরুটা হয়েছিলো আমাদের দিয়ে, আমাদের তৈরী করা সফটওয়্যার, আমাদের চিন্তা। প্রোডাক্টটা খুব নির্দিষ্ট একটা গ্রুপের জন্য, সোশাল নেটওয়ার্কের মত পরিচিত না।

গুণীজনদের কাছ থেকে পাওয়া এখন পর্যন্ত সেরা উপদেশ আপনার কাছে কোনটি মনে হয়েছে ?

If a cluttered desk is a sign of a cluttered mind, of what, then, is an empty desk a sign?

– Albert Einstein

যেকোনো জটিল পরিস্থিতিতে নিজের কাজ করার মানসিকতা ঠিক রাখার জন্য আপনি কি করেন ?

আমি সহজ একটা কৌশল মেনে চলি – ঠিক ওই মূহুর্তে কিছু না বলা, একটু  নিজেকে ব্যক্তিগত সময় দেয়া। ওই মূহুর্তে প্রতিক্রিয়া না করা। আমি জীবনে যত ভূল করেছি তার বেশির ভাগই মূহুর্তে প্রতিক্রিয়া করার কারনে। আমি যেটা করি, কিছুটা সময় নিয়ে একটা সমাধানের পথে চিন্তা করি। সমস্যাটা বাড়াই না।

আপনি এখন থেকে পরবর্তী ৫ বছরের মধ্যে কাজ সফটওয়্যার কম্পানি কে কোথায় দেখতে চান ?

কঠিন প্রশ্ন। আমি চাই আমাদের প্রোডাক্ট সাইড যেনো সার্ভিস সাইডের মত একইরকম মূল্যবান হয়। আমরা সার্ভিসের দিক দিয়ে খুব সফল কিন্তু প্রোডাক্টে তেমন না। আমি চাই দুই দিকেই সমান সফলতা আসবে।আমরা অবশ্যই বিশ্বের সেরা ভাল সফটওয়্যার কোম্পানি হতে চাই, গুগল এর চেয়েও ভাল :-D

নতুন রিসোর্স বাছাইয়ের সময় কোন বিষয় গুলো দেখেন ?

আগেই একবার যেটা বলেছি, প্রথমেই দেখি কোম্পানির চিন্তাধারার সাথে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ (Fit কেমন)। আমার মতে একটা রিসোর্সের স্কিলের থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে Fit.  স্কিলের ক্ষেত্রে “OOP কাহাকে বলে,  কত প্রকার ও কি কি? “ – এরকম প্রশ্ন আমরা করি না।

কারন এগুলো অনর্থক, সব কিছু গুগলে আছে। আমারা দেখি যে সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি আমাদের সাথে মিলে নাকি। যে সমস্যাটা দেয়া হয়েছে, তার সমাধান সে কিভাবে বের করছে। উত্তরটা হয়তো সে জানে না কিন্তু এর পর কি করবে। অনেক সময় আমরা জিজ্ঞেস করি, “ঠিক আছে আপনি তো উত্তরটা দিতে পারছেন না, কি লিখে গুগলে সার্চ দিবেন?” আজকাল আসলে সবকিছু ব্রেনে থাকার প্রয়োজন নেই, শুধু জানতে হবে কিভাবে গুগুল থেকে সমাধান বের করে আনতে হয়।

চাকুরীর বাইরের কার্যক্রম (out-of-work activity) যেমনঃ খেলা, পার্টি, ফ্যামিলি ট্যুর এগুলোতে আপনি  কেন জোর দেন ?

কারন আন্তরিক সম্পর্ক গঠনে এগুলো অত্যন্ত মূল্যবান। কাজের সময় বিশেষ করে সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করার সময় মানবিক বন্ধন তৈরী করা খুব কঠিন। কিন্তু আমি যখন কাজ বিহীন পরিবেশে বাইরে ঘুরছি, খেলছি, গল্প করছি তখন স্বাভাবিক বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্ক গুলো তৈরী হয়। আর একসাথে কাজ করার জন্য এটাই সবচেয়ে জরুরী।58283_10151399845096001_274176861_n

আপনি দীর্ঘদিন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন, এরপর বড় একটা সময় প্রজেক্ট ম্যানেজার ছিলেন, এখন CTO হিসেবে আছেন। এরকম অবস্থায় কি কি চেঞ্জ এসেছে? কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখা উচিৎ ?

ডেভেলপার বা টেকলীড থাকা অবস্থায় তেমন বেশি কিছু চিন্তা করতে হয় না শুধু টেকনিকাল স্কিলের উন্নতি করা ছাড়া।কিন্তু যত সময় এগিয়ে যায়, একটা জায়গায় ফোকাস বাড়াতে হয় যেটা সাধারণত আমরা দিই না তা হচ্ছে – প্রোডাক্টের UI and UX. “UX is important” – এই ব্যাপারটা ধীরে ধীরে মাথার ভিতরে ঢুকাতে হয়, অনেকটা দায়িত্বে পরিনত হয়।

কারন একজন টেকলীড বা CTO সেটা গাইড করবে। তার যদি UX সম্বন্ধে জ্ঞান না থাকে তাহলে প্রোডাক্ট এত বাজে হয় যে, মানুষ আর ব্যবহার করে না। CTO হওয়ার পর নতুন যে দক্ষতাটা জরুরী হয়ে পরে তা হচ্ছে – “People Skills”.

মানুষের সাথে মানুষের যোগাযোগ কি ঠিকমত হচ্ছে? একজনের সাথে আরেকজনের সম্পর্কে কোথায় ফাঁক আছে? বা খেয়াল করা, অমুক তমুকের সাথে ঠিকমত কাজ করতে পারছে না ইত্যাদি। একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের কাছে এগুলো খুব জরুরী না কিন্তু একজন CTO বা টেকলীডের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া  CTO  পর্যায়ে গেলে ব্যবসা, মার্কেটিং, কিভাবে ডেমো দিলে ভালো হয় এসব বিষয়ও বোঝা লাগে।    

কাজ সফটওয়্যার এমন অনেক প্রজেক্ট করেছে যেগুলো কয়েক বছর ধরে চলেছে বা এখনো চলছে। একটা দীর্ঘমেয়াদী প্রজেক্ট আর একটা স্বল্পমেয়াদী প্রোডাক্ট চালনার ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো ভিন্ন হয় ?

দীর্ঘমেয়াদী প্রজেক্টের ক্ষেত্রে পারস্পারিক সম্পর্কটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। টিম মেম্বারদের নিজেদের মাঝে সম্পর্ক এবং ক্লায়েন্টের সাথে সম্পর্ক। টিম মেম্বাররা প্রজেক্টের নাড়ি-নক্ষত্র জানবে। এজন্য প্রজেক্ট মেম্বারদের ঘনঘন পরিবর্তন করা একদমই অনুচিত।

প্রযুক্তি দুনিয়া নিয়ত পরিবর্তনশীল। আজকে যেটা আছে কালকেই সেটা নেই। একটা সফটওয়্যার কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার জন্য এই পরিবর্তনের সাথে কিভাবে খাপ খাইয়ে নেয়া উচিৎ ?

আমরা নিজেদের দিয়ে উদাহরণ দিতে পারি। আমরা নিয়মিত ট্রেনিংয়ের আয়োজন করি। সেমিনারের ব্যবস্থা করি যাতে তথ্য আদান-প্রদান হয় । রিসোর্সগুলো টিমের মাঝে অদল-বদলের মাধ্যমেও আমরা অনেক উপকার পেয়েছি। একটা রিসোর্স ডটনেটে কাজ করার পর সে যদি কিছু দিন জাভাতে কাজ করে, তার যদি ইচ্ছা থাকে, তাহলে আশাতীত লাভ হয়। দেখা যায় ২+২=৪ না হয়ে ৬ বা ৮ হয়ে যাওয়ার মত হয়। এগুলো একটা কোম্পানির টিকে থাকার জন্য জরুরী।

কাজ সফটওয়্যার “প্রথম সূর্য” নামক একটা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাথে যুক্ত আছে। এটা নিয়ে কিছু বলুন। এর পেছনে কারন কি ছিলো ?

প্রথম সূর্য  একটা অলাভজনক সংস্থা। তারা আজিজ সুপার মার্কেটের পাশের রাস্তাতে পথশিশুদের পড়াতো। ওরা এখন একটা থাকার জায়গাও করেছে। ওদের সাথে আমাদের পরিচয় হঠাৎ করে। আমাদের একজন ছিলো ওদের বন্ধু। গল্পচ্ছলে জানা গেলো ওরা তো আমাদের প্রতিবেশী, এরকম একটা মহৎ কাজের সাথে যুক্ত আছে। সেভাবে আমারাও জড়িয়ে পরি।

এখন আমাদের রোল মূলত ফান্ডিং করা। আমরা মাসিক ভিত্তিতে একটা অনুদান দিই। এটা করার উদ্দেশ্য আসলে সাধারন। আমরা কখনোই শুধু একটা ব্যবসা করা বা কিছু সফটওয়্যার বানানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চাই নি।  সবচেয়ে বড় কথা, প্রযুক্তি দুনিয়ার সবার সু্যোগ রয়েছে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার। আমরা যারা থেকে যাচ্ছি,  তাদের অবশ্যই একটা দায়িত্ব আছে শুধু নিজেদের কাজের গন্ডী থেকে বের হয়ে এসে সমাজে সাহায্য করা। কারন নিঃসন্দেহে আমারা সামাজিক দিক দিয়ে কিছুটা অনগ্রসর অবস্থায় আছি। তাই দেশাত্ববোধ থেকেও কিছুটা প্ররোচনা পাই এগুলো করার।

আপনার প্রতিদিনকার কাজ সম্পাদন করার জন্য কোন ডিভাইসটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে থাকেন এবং কেন ?

কম্পিউটার কারন আমাকে প্রতিদিন অনেক ইমেইল ব্যবহার করতে হয় এবং আমি ডেক্সটপ কম্পিউটারে দিয়ে এটা করতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করি।

প্রতিদিনের টু-ডু লিস্ট তৈরি করার জন্য কোন সফটওয়্যার/পন্থাটি আপনার কাছে সেরা মনে হয় ?

নির্দিষ্ট কিছু নেই। বেশ কিছু সফটওয়্যারের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহার করি যেমনঃ chrome, outlook, iOS email reader – যখন যেটা লাগে।

শূন্যস্থান পুরন করুন, আমি এই একই প্রশ্নের উত্তর গুলো  ______ কাছ থেকে শুনতে পছন্দ করব।

শাহ আলী নেওয়াজ তপু 

আপনার সম্পর্কে আপনার কাছের কিছু মানুষের মতামত।

ওয়াহিদ ভাই এর সবচেয়ে বড় গুন – উনি কখনো রাগ করেন না,  বিরক্ত হয়ে ভূরু কুচকে তাকায়না। সবচেয়ে বড় মিশন ক্রিটিকাল অবস্থায়-ও তার ডায়লগ “মাথা ঠান্ডা আ…”। উনার মাঝে  কোনো বস সুলভ আচরণ নেই, যেটা পুরা কোম্পানির সবার মাঝে ছড়িয়ে পরে। টীম লিড কে “ভোগল” বলতে সবচেয়ে জুনিয়র ছেলেও  ভয় পায় না, যার পিছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ওয়াহিদ ভাই এর ভুলা ভালা নিরহংকার ব্যবহার। ওয়াহিদ ভাই এর কাছে অফিসের কাজের বাইরেও অনেক কিছু শিখার আছে। আমি অফিসে তার কাছ থেকে যা শিখেছি তার চেয়ে বেশি শিখেছি তার সাথে ঘুরতে গিয়ে ( অফিসে ওয়াহিদ ভাই এর কাছে টেকনিক্যাল কিছু শিখার নাই, উনি COM যুগের মানুষ :p)  ওয়াহিদ ভাই এর বিচিত্র খাবার অভ্যাস, আমি উনার সাথে মাইলের পর মাইল ক্ষিদা নিয়ে হেটেছি একটা রেস্টুরেন্ট খুজতে, যার কথা লোনলি প্ল্যানেট এর কোনো এক কোণায় ওয়াহিদ ভাই পড়েছিল। শেষ জানা মতে ওয়াহিদ ভাই এর খাবার তালিকায় সাপের রক্ত-ও ছিল, জানি না খেয়েছে কিনা !!! নাহিদুল কিবরিয়া, Principal Software Engineer, Orbitax Bangladesh Limited

 

ওয়াহিদ ভাইয়ের সাথে আমি কাজ করছি দীর্ঘ ৮ বছর। এই ৮ বছরে আমার কখনো মনে হয়নি যে উনি আমার বস এবং কাজ সফটওয়্যার লিমিটেড এর মালিক। উনার অনেক গুলো গুনের মধ্যে একটি গুন হলো উনি খুব সহজেই মানুষের সাথে মিশে যেতে পারে এবং মানুষও তাকে পছন্দ করে ফেলে অতি দ্রুত। তিনি একজন টেকনিক্যাল ব্যক্তি হলেও তার মধ্যে বেশ ভালো শৈল্পিকতা কাজ করে।  আমি আশা করি তিনি কাজ সফটওয়্যার কে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং আমরা উনার থেকে আরো অনেক কিছু শিখতে পারব। – শাব্বির হোসেন, Principal Creative Engineer, KAZ Software

 

উনি একজন আমুদে মানুষ। মানব জীবন নাতিদীর্ঘ। গোমড়া মুখে হোমরা-চোমরা  হয়ে আটটা টু পাঁচটা অফিস করা মানে হলো নিজেকে বঞ্চিত করা। এই ধারনাকে আমরা অনেকে বাড়াবাড়ি রকম কেতাবি আদর্শ মনে করলেও উনি এই বিশ্বাস ধারন করেন। তাই পেশাগত কাজকর্ম আর আনন্দ কে পাশাপাশি বা একটু উপরের দিকেই রাখেন উনি। দক্ষ চিন্তাশীল কর্মী।  সমান অধিকার এ বিশ্বাসী। রোমাঞ্চপ্রিয় দার্শনিক – রসিক। শেষ কথা, প্রচন্ড আশাবাদী, মেধাবী, সদাহাস্য এবং আপাত ক্ষাপাটে এই লোকের জীবনে সাফল্যের সংজ্ঞা আসলে কি তা আমার কাছে এক রহস্য কিন্তু একই সাথে ঈর্ষনীয়। – কাজী সাব্বির ইবনে আতাউর, Senior Software Engineer at Manulife Technology & Services, Malaysia

Shares