আমি চমক হাসান, একজন অনলাইন শিক্ষক
আমি যেভাবে কাজ করি

Shares

নাম ও পেশাঃ

আমি চমক হাসান, University of South Carolina এর রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং একজন অনলাইন শিক্ষক।

কোন বিষয়গুলো আপনাকে গণিত বিষয়ে অনুপ্রানিত করেছে?

গণিতের কিছু নিজস্ব সৌন্দর্য আছে, যত গভীরে যাওয়া যায়, পরতে পরতে নতুন সব সৌন্দর্য উন্মোচিত হয়। গণিত কখনও মিথ্যে বলে না, কোন অনুমান করলে সেখানে কতটুকু ভুলের সম্ভাবনা আছে, সেটাও বলে দেয়। একটা ইউক্লিডিয় তলে, কোন সমকোণী ত্রিভুজে লম্বের বর্গ আর ভুজের বর্গ মিলে অতিভুজের বর্গের সমান হবেই, সেটা মহাবিশ্বের যেই প্রান্তেই আমরা যাই। এমন সত্যিগুলো কেউ কখনও ভাঙতে পারবে না!

প্রথমে মুগ্ধ হয়েছিলাম সংখ্যার প্যাটার্ন দেখে। সংখ্যার বর্গ করা, গুণফল – এই ব্যাপারগুলো খুবই মজার। (কেউ চাইলে ১,১১,১১১,১১১১, এগুলোর বর্গ করে দেখতে পারেন, কিংবা ২×৯, ২২×৯৯, ২২২×৯৯৯, ২২২২×৯৯৯৯ এগুলো গুণকরে দেখতে পারেন, মজা পাবেন, নিশ্চিত! ) এরপর সমস্যা সমাধানের আনন্দ ।

কিছু সমস্যা আছে যেগুলো সমাধান করার সময় মনে হয় মাথার চুল ছিঁড়ে ফেলি। চিন্তা করতে করতে হারিয়ে যাই, এরপর হঠাৎ যখন সমাধানটা বুঝে ফেলি সেটার আনন্দ অবর্ণনীয়, অদ্ভুত, অসাধারণ, কোন কিছুর সাথে সেটার তুলনা হয় না।

‘নিউরনে অনুরণন’ বইটা আমাকে দারুণ অনুপ্রাণিত করেছিল। ওখানে ২০০ টা সমস্যা দেয়া আছে যার কোন সমাধান দেয়া নেই। সমাধান না থাকার ব্যাপারটাও দারুণ। কিছু সমস্যা সমাধান করলে নিজেই অনুভব করা যায় সমাধান হয়েছে কিনা! যেমন: আটটা মন্ত্রী দাবার বোর্ডে সাজাও যেন কেউ কাউকে খেতে না পারে!

গণিত নিয়ে নতুন কোন ভিডিও করার আগে আপনি কী করেন? যেমন আগে থেকে কি স্ক্রিপ্ট লিখে তারপর শুরু করেন?

পুরোপুরি লিখিত স্ক্রিপ্ট থাকে না। ভিডিও বানানোর প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো: কন্টেন্ট ঠিক করা আর কিভাবে উপস্থাপন করা হবে সেটা ঠিক করা।

আমি প্রথমে একটা মূল ‘থিম’ ঠিক করে নিই। যেমন পর্ব তিন ছিল ‘শূন্য’ এর উপর। এবার মনে মনে ভাবি এই বিষয়ে কী কী বলা যেতে পারে। ‘গণিতের রঙ্গে’ ভিডিওগুলোতে আমি মূলত দুটো কাজ করি: কিছু বিষয় বোঝাই আর কিছু মজার কথা বলি গণিত এবং গণিতবিদদের নিয়ে। এবার এই ব্যাপারগুলো নিয়ে এবার একটু পড়াশোনা করি- বইপত্র এবং অনলাইনে। অনলাইনে অনেক ভুলভাল তথ্য থাকে, চেষ্টা করি ঠিকটা বেছে নিতে। আমি যা বলতে যাচ্ছি, দেখে নিই সেগুলো ঠিক বলছি তো!

এরপর একটা খাতায় মূল পয়েন্টগুলো এলোমেলোভাবে লিখি। কোনটার পরে কোনটা বলব সেটা সাজাই। সাজানোর পরে একটা সাদা কাগজে পয়েন্টগুলো বড় করে লিখি। প্রতিটা পয়েন্টে কী বলব সেটা ভাবি এবং একটা পয়েন্ট থেকে আরেকটা পয়েন্টে কিভাবে ট্রানজিশন হবে সেটা ঠিক করে নিই। ভিডিও করার সময় ‘পয়েন্ট’ লেখা সাদা কাগজটা সামনে ঝুলিয়ে দিই!

আপনি কিভাবে আপনার কাজে ফোকাসড থাকেন?

যা-ই করি চেষ্টা করি মনোযোগ দিতে। আমি টিভি দেখতে গেলেও ওটার ভিতর ডুবে যাই, আশেপাশে আর কিছু খেয়াল থাকে না। ঘুমালেও কিছু টের পাই না। বইপড়া , গান এগুলোতেও একই ব্যাপার।

যদি বড় কোন কাজ হয়, তাহলে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে নিই। দরকার পড়লে লিখে রাখি। এবার একটা একটা করে ছোট কাজগুলো শেষ করি। একটা কাজে ফোকাসড থাকতে গিয়ে পরিবারের জরুরী ব্যাপার গুলো ভুলে যাই, আমার স্ত্রী এক্ষেত্রে দারুণ সহযোগিতা করে আমাকে।

আপনি পিএইচডি করার জন্য দেশের বাহিরে আছেন, বাংলাদেশ এ আসার পরিকল্পনা কী? কবে নাগাদ আমরা আপনাকে দেশে এ দেখতে পারব?

এখনও কয়েক বছর পর পর দেশে যাওয়া হয়। পুরোপুরি ফিরে যাওয়ার জন্য আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ঠিক কবে একেবারে ফিরতে পারব, সেটা এখনই বলতে পারছি না, সম্ভবত আরও পাঁচ বছরের মত লাগবে।

আপনিতো গণিত অলিম্পিয়াড এ ছিলেন, এখন বাইরে থাকায় সরাসরি যোগাযোগ করতে পারছেন না। গণিত অলিম্পিয়াড এর সাথে তাহলে আপনি কিভাবে জড়িত  আছেন?  

সরাসরি যুক্ত নেই, তবে মন থেকে সবসময় অনুভব করি। ইমেইল, ফেসবুক, ইউটিউবে খোঁজখবর রাখার চেষ্টা করি।

1222

গণিত অলিম্পিয়াড এর একাংশ

আপনারতো বাংলাদেশে ফিরে এসে কিছু করার প্ল্যান আছে, সেটা কী নিয়ে আমাদেরকে বলবেন কি?

ইচ্ছে আছে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর, নিজের গবেষণা ক্ষেত্রটাকে এগিয়ে নেওয়ার। এর সাথে গণিত ও বিজ্ঞানের উপর বই লেখা, ভিডিও করা চালিয়ে যাব।

গণিত-বিজ্ঞান নিয়ে গণমাধ্যমে অনুষ্ঠান করারও পরিকল্পনা আছে। গণিত আর বিজ্ঞানের জন্য ভালোবাসাকে প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলগুলোতে পৌঁছে দিতে চাই।

একটা সুস্পষ্ট রূপরেখা দাঁড়া করাতে চাই যেন, ৪৮৮ টি উপজেলায় ৪৮৮ টা গণিত ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা যায়, এরপর সেখান থেকে সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদে মানুষের কাছে গণিত আর বিজ্ঞানের আনন্দ তুলে ধরা যায়।

আপনিতো গণিত অলিম্পিয়াড নিয়ে গান লিখেছেন, গান লিখার পিছনের গল্পটা আমাদের সাথে শেয়ার করবেন কি? এখন সেটা গনিত অলিম্পিয়াড এর আসরে বাজে সেটা শুনতে আপনার কেমন লাগে?

গণিত অলিম্পিয়াডের পেছনের সবচেয়ে সক্রিয় মানুষ শ্রদ্ধেয় মুনির হাসান ভাই। তিনি অনেকদিন ধরেই আমাদের ‘উৎসবের গান’ খুঁজছিলেন, পত্রিকাতে বেশ কয়েকবার বিজ্ঞাপনও দিয়েছেন। আমাদের একটা গণিতজয়ের গান আগে থেকেই ছিল ‘আমরা করব জয়’ গানটাকে একটু নিজেদের মতো করে ‘গণিত করব জয়’। কিন্তু নিজেদের মৌলিক ‘উৎসবের গান’ ছিল না।

মুনির ভাইয়ের বিজ্ঞাপনগুলো থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই ২০০৮ এ গানটি লিখি, সুরও তখন করি। কিন্তু তখনও আমি গণিত অলিম্পিয়াডের সাথে অনেক গভীরভাবে যুক্ত হইনি। সংশয়, সংকোচে কাউকে গানটার কথা বলিনি।

পরে ২০০৯ এ গণিত ক্যাম্পে গানটি গেয়ে শোনাই, সবাই খুব খুশি হয়। এরপর ঢাকা আঞ্চলিক উৎসবে গানটি করি, ওটাকে ‘গণিত উৎসবের গান’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এখন প্রতিটি গণিত উৎসবে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব শুরুর সময় (যখন ভলান্টিয়ারেরা খাতা দেখায় ব্যস্ত থাকেন আর শিক্ষার্থীরা ফলাফলের অপেক্ষায় থাকে)  এই গানটি পরিবেশন করা হয়।

যখন শুনি আমার গানটা গাওয়া হচ্ছে, এটা নি:সন্দেহে অদ্ভুত সুন্দর একটা অনুভূতি। প্রথম গাওয়া হয়েছিল বগুড়াতে ২০১০ এ, আমি তখন সেখানে ছিলাম । কী যে ভালো লেগেছিল! অবশ্য যতবার শুনি, প্রতিবারই মনে হয় সুরটা ছোটদের জন্য কঠিন হয়ে গেছে, বদলে দিতে পারলে ভালো হতো!

আপনিতো গণিত নিয়ে এবার একটা বই লিখেছেন, সেটার সাড়া কেমন পেয়েছেন?

দারুণ সাড়া পেয়েছি। বইমেলায় দুটো মুদ্রণ শেষ হয়ে গেছে। বহু মানুষ তাদের ভালোবাসা জানিয়ে মন্তব্য পাঠিয়েছে। এটা আমার জন্য খুবই অনুপ্রেরণার।

13

গণিতের রঙ্গে: হাসিখুশি গণিত

আপনার কাজের স্থানটা কেমন?

ভয়ঙ্কর রকম অগোছালো। এটা আমার খুবই খারাপ দিক। প্রয়োজনের জিনিসপত্র খুঁজে পেতে ঝামেলা হয়। তবে পিএইচডি করতে এসে এটার একটু উন্নতি হচ্ছে।

1444 (1)

আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় কৌশল কি?

অতিবিচলিত হই না, কিছুতে ঝামেলা লাগলে চেষ্টা করি মিটিয়ে ফেলতে। আমি জানি আমি অনেক ভুল করি। ভুলোমনা বলে একই ভুল অনেকবারও করি। তবে জানি আমার এসব ভুলে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে না, তাই ভুলকে সহজভাবে নিই।

ভুল স্বীকার করি, চেষ্টা করি ভুলের কারণে যে সমস্যা হলো সেটাকে ধামাচাপা না দিয়ে ঠিক করে ফেলার।

তিনটি অ্যাপ/সফটওয়ার/টুলস যেটি ছাড়া আপনার একদিনও চলা সম্ভব না?

আমি কিচ্ছু না করেও শুধু আলস্যে চিন্তা করে সারাদিন কাটিয়ে দিতে পারি। তাই এমন অপরিহার্য কোন টুলস নেই। তবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করি ব্রাউজার (Chrome/ Firefox সমান তালে) এবং ব্রাউজ করা হয় মূলত গুগল, উইকিপিডিয়ায় আর ফেসবুকে।  

প্রতিদিনের টু-ডু লিস্ট তৈরি করার জন্য কোন সফটওয়্যার/পন্থাটি আপনার কাছে সেরা মনে হয়?

কাগজ কলম। ফোনে কিংবা কম্পিউটারে লিখে সুখ পাই না।

133

আপনি কোন সময়টাতে কাজ করতে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন ?

রাতে। তবে একবার কিছুতে ডুবে গেলে টানা ২০-২২ ঘণ্টাও কিছু মনে হয় না, তখন আর দিনরাত ব্যাপার থাকে না।  

আপনার ঘুমানোর রুটিন কি রকম?

এটা তো বদলে যায় কাজের চাপ কিংবা আবহাওয়ার উপরে ভিত্তি করে। তবে সাধারণত রাত ২টা – সকাল ৯টা পর্যন্ত ঘুমাই। ছুটির দিনে দেরি করে উঠি।  

আপনার কোন দিকটা অন্যদের চেয়ে ভাল?

আমি জানি যে আমি কোন কিছুতেই অসাধারণ না। আমি মানুষ, আমি দুর্বল প্রাণী- শারীরিকভাবে এবং মানসিকভাবে। কিন্তু এটা নিয়ে আমার বড় কোন আফসোস নেই। আমি জানি প্রতিটা মানুষ অসীম সম্ভাবনাময়, মানুষ তার দুর্বলতাকে ডিঙ্গিয়েই এভারেস্ট চড়তে পারে, চাঁদে পা রাখতে পারে।

আমি জানি যে মানুষ একাকিত্ব নিয়ে বিলাসিতা করতে পারে, কিন্তু সে আসলে একা না। দুজন মানুষের ভালোবাসায় তার জন্ম হয়। তার ব্যবহার্য প্রত্যেকটা জিনিস হাজার বছরের লক্ষ-কোটি মানুষের শ্রম আর জ্ঞানে তৈরি, যাদের অনেককেই আমরা অসাধারণ বলে আখ্যা দিইনি।

আমি জানি আমি অসাধারণ নই এবং আমি জানি অসাধারণ না হলেও পৃথিবীতে মাথা তুলে দাঁড়াতে কিছু সমস্যা হয় না! এই বোঝাটা অনেকে বোঝে না, সুনির্দিষ্ট চেষ্টা করতে থাকলে তারা কোথায় পৌঁছে যাবে তারা ধারণাও করতে পারে না। আমি তাদের থেকে সুখী মানুষ।

গনিত নিয়ে আমাদের মধ্যে এখনও অনেক ভয় কাজ করে, আপনি কী মনে করেন- এখন নতুন প্রজন্মের যারা আছে তারা কিভাবে এই ভয় কে জয় করে গণিত কে ভালবাসতে পারবে?

আমার মনে হয় গণিতভীতিটা সঞ্চারিত হয় মূলত শিক্ষকদের থেকে। তারা নিজেরা যখন শিখেছেন, তাদের অনেকেই গণিতকে মজার বিষয় হিসেবে শেখেননি।অনেকেই গণিত পড়াচ্ছেন আর কোন ভালো চাকরি না পেয়ে। আমি আশাবাদী, এই ভীতিটা কমে আসবে।

এখন গণিত অলিম্পিয়াডের কারণে অনেকেই জানে গণিতও একটা মজার বিষয় হতে পারে। গণিত নিয়ে সৌমিত্র চক্রবর্তী, অভীক রায়, সুব্রত দেবনাথ, মুনির হাসান, ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার সহ অনেকেই দারুণ সব বই লিখছেন, এগুলো মানুষের কাছে একটু করে পৌঁছে যাচ্ছে।

এই প্রজন্ম যখন শিক্ষক হবে, তারা অনেকেই জানবে গণিত একটা মজার বিষয়। তাদের ছাত্ররা কম ভয় পাবে, তাদের যারা ছাত্র তারা আরো কম। এভাবেই কমে আসবে।

আপনার প্রতিটা গান এ কোন না কোন থিম আছে, যে কোন গান লিখার পিছনে আপনি কী ফোকাস করে থাকেন?

গান আমার কাছে আবেগ প্রকাশের মাধ্যম। গাইতে ভালোবাসি। প্রায়ই মনের ভিতর কোন একটা সুর খেলা করে, সেটা শব্দ নিয়ে মূর্ত হতে চায়। সেই সুরের আবেগটা ধরে শব্দ, বাক্য আর ছন্দ নিয়ে খেলি। এভাবে গান তৈরি হয়।

গান নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি? ভবিষ্যৎ এ আমরা কি আপনার কোন গানের অ্যালবাম পেতে পারি?

গান নিয়ে আমার বড় কোন পরিকল্পনা নেই। লিখব, সুর করব, গাইব যখন মনে হবে। গানের অ্যালবামের ইচ্ছে আছে, সেটা দূর ভবিষ্যতে।  

144

কাজের সময় আপনি কি ধরনের গান শুনতে পছন্দ করেন?

কাজের সময় গান শুনি না, কারণ তাহলে গানটা শান্তিমতো শোনা হয় না!

যেকোনো জটিল পরিস্থিতিতে নিজের কাজ করার মানসিকতা ঠিক রাখার জন্য আপনি কি করেন ?

একা একা হাঁটি, চিন্তা করি। মাঝে মাঝে খাতা কলম নিয়ে বসে পরিকল্পনা করি কিভাবে ঠিক করা যাবে।

গুণীজনদের কাছ থেকে পাওয়া এখন পর্যন্ত সেরা উপদেশ আপনার কাছে কোনটি মনে হয়েছে ?

আমার সুপারভাইজার অসাধারণ মানুষ। তিনি একটা কথা খুব বলেন- Don’t be vague, be specific. তিনি বলেনঃ

কোন কিছু ঠিক কতটা ভালো বা কতটা খারাপ সেটা যেন সংখ্যা দিয়ে নির্দিষ্ট করে বলি

কথাটা খুব ভালো লাগে, আমি নিজের মতো দাঁড়া করিয়ে নিয়েছি ব্যাপারটাকে।

একটা ছেলে একটা সুন্দর মেয়েকে ভালোবাসে, সে যদি মেয়েটাকে বলে তুমি সুন্দর, তাতে মেয়েটার কোন ভাবান্তর হবে না। মেয়েটা এই কথা বহুবার শুনেছে। কিন্তু ছেলেটা যদি বলে, তুমি হাসলে তোমার ডান গালে আলতো করে যে টোল পড়ে, সেটা অনেক সুন্দর- নিশ্চিত থাকতে পারেন, মেয়েটা বাসায় গিয়ে আয়নায় একবার তাকাবে।

কিংবা কোন নেতা বলল, ‘আমি এটা, ওটা করব, উন্নয়ন করব, দারিদ্র্য কমাব’। এগুলো অর্থহীন কথা- কবে, কতটূকু, কীভাবে এগুলো না বললে বুঝতে হবে সবই ফাঁকা বুলি।

একজন মানুষের কোন তিনটি বই বা সিনেমা অবশ্যই পড়া বা দেখা উচিৎ ?

তিন এক্ষেত্রে খুব ছোট সংখ্যা। বই এবং সিনেমা দুটোই খুবই শক্তিশালী মাধ্যম। সিনেমা দেখা থেকে বই পড়া বেশি জরুরি মনে করি। কারণ বই পড়ে ছবির মতো করে চিন্তা করতে করতে কল্পনাশক্তির দারুণ চর্চা হয়। যত পারা যায় বই পড়া উচিৎ, বই পড়তে ইচ্ছে না করলে সিনেমা দেখা যেতে পারে।

যারা ভবিষ্যতে গণিত নিয়ে আগাতে চায় তাদেরকে আরও উৎসাহিত করতে আপনার উপদেশ কি হবে?

গণিত আর বিজ্ঞানে অনেক সমস্যা রয়েছে যেগুলোর বর্ণনা সহজ কিন্তু সমাধান হতে শত শত বছর লেগে গেছে, অনেকগুলো এখনও সমাধান করা যায়নি। ঐ সমস্যাগুলো সমাধান করতে অনেক মানুষ সময় দিয়েছে, কিন্তু শেষ অব্দি পারেনি। এই যে সময়টা তারা দিয়েছে সেই সময় কিন্তু ব্যর্থ হয়ে যায়নি, একটা ব্যাপার সমাধান করতে গিয়ে অন্য বহু কিছু আবিষ্কার হয়ে গেছে।

অমরত্বের সুধা আর যেকোন ধাতুকে পরশ পাথর দিয়ে সোনায় পরিণত করার প্রক্রিয়া আবিষ্কার করতে শত শত বিজ্ঞানী চেষ্টা করেছেন, পারেননি। কিন্তু তাদের সেই আপাত ব্যর্থ চেষ্টার আলকেমি থেকেই আজকের কেমিস্ট্রি (রসায়ন) তৈরি।

তাই তোমাদের ধৈর্য্য রাখতে হবে, সময় দিয়ে যেতে হবে। দেখবে যা চাচ্ছ ঠিক সেটা হয়তো পাও নি, কিন্তু তাতে অর্জন কিছুমাত্র কম হবে না! গণিতের আনন্দের বড় অংশ চিন্তার মাঝে। চেষ্টা করবে যা পড়ছো সেটা অনুভব করতে। যারা অলিম্পিয়াডে ভালো করতে চাও, অলিম্পিয়াডে কী ধরনের সমস্যা আসে সেটা জানার চেষ্টা কর।

জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াডের প্রশ্ন, গণিত বইয়ের তালিকা পাবে Mathmatical Olympiad ওয়েবসাইটে। আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে কী ধরনের প্রশ্ন আসে সেটা পাবে International Mathematical Olympiad ওয়েবসাইটে।

শূন্যস্থান পুরন করুন, আমি এই একই প্রশ্নের উত্তর গুলো  ______ কাছ থেকে শুনতে পছন্দ করব।

মুনির হাসান স্যার।

Shares