আমি অনিরুদ্ধ অধিকারী, কো-ফাউন্ডার, ক্রসওয়্যার ইন্টারঅ্যাক্টিভ
আমি যেভাবে কাজ করি

Shares

নাম ও পেশা:

অনিরুদ্ধ অধিকারী। ক্রসওয়্যার ইন্টারঅ্যাক্টিভ এর কো-ফাউন্ডার এবং গোল্ডবার্গ লিমিটেড এর ফার্মওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং এক্সিকিউটিভ।

আপনি কি ডেভেলপমেন্টে আসার পেছনের গল্পটি সবার সাথে শেয়ার করবেন? এত তাড়াতাড়ি আপনি কোডিং করা কিভাবে শুরু করলেন ?

আমি যখন ক্লাস ফোরে পড়ি, তখন বাসায় কম্পিউটারের আগমন হয়। অনেকদিন গুঁতাগুঁতি করে আর কম্পিউটার ভালো লাগেনি। গান শোনা, ছবি দেখার মত কাজ করে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। আমি গেমও খেলতে পারতাম না, আমার মস্তিষ্কের অদ্ভুত সিম্যুলেশন সিকনেসের জন্য। এখনও আমি কম্পিউটার জেনারেটেড থ্রিডি গ্রাফিক্স সহ্য করতে পারি না, মাথা ঘুরিয়ে বমি আসে বেশি দেখলে।

আমার মা (বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল নার্সিং ইন্সটিটিউটের লেকচারার) থাইল্যান্ডে চলে যান প্রশিক্ষণের জন্য। তখন তার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বাসার কম্পিউটারে যোগ হয় ইন্টারনেট সংযোগ। আর আমি সুযোগ পাই শেখার ও জানার। একদিন ঘুরতে ঘুরতে চলে যাই লিনাক্স ফোরামে, বাংলাদেশের সেই সময়ের সবচেয়ে জমজমাট গীকদের আড্ডা। ওখানে পরিচয় হয় রাসেল ভাইয়া, সারিম ভাই, নূর ভাই, রাব্বি ভাই সহ অনেকের সঙ্গে। তাদের গীকময় কার্যকলাপ দেখে আমার মনে হয়, আমি যখন গেম খেলতে পারি না, নিশ্চয়ই কোডিং পারব!

তখন আস্তে আস্তে বেসিক -> ভিজ্যুয়াল বেসিক (GAMBAS) -> পাইথনের মাধ্যমে শুরু হয় আমার প্রোগ্রামিং ও সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট জগতের যাত্রা। রুয়েটের সারিম ভাইয়ার অবদান অনস্বীকার্য। হাসিন ভাই, মাসনুন ভাই, মাফিনার ভাই, রাইন ভাইসহ নাম উল্লেখ না করা অনেক বড় ভাইয়ের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। একটা শিক্ষা নেয়ার মত ব্যাপার হল,

“সঙ্গদোষে লোহা ভাসে” – আসলেই, আমার সঙ্গের জন্যই আমি সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টে আসতে পেরেছি।

আপনি ক্রসওয়্যার ইন্টারঅ্যাক্টিভের কো-ফাউন্ডার, এ সম্পর্কে একটু বলুন। কি ধরনের কাজ করা হয় এখানে?

ক্রসওয়্যার ইন্টারঅ্যাক্টিভ একটি এমবেডেড লিনাক্স ফোকাসড স্টার্টআপ। আমরা মূলত ফায়ারফক্স ওএস, টাইজেনের জন্য অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের পাশাপাশি এই দুইটি প্লাটফর্মের জন্য ম্যানুফ্যাকচারারদেরকে অপারেটিং সিস্টেম কাস্টমাইজেশনের সার্ভিস দিয়ে থাকি।

ফায়ারফক্স ওএস ও টাইজেন উভয় মার্কেটপ্লেসে সেরা দশ অ্যাপের মধ্যে ক্রসওয়্যারের অ্যাপ রয়েছে। এছাড়াও আমরা কাজ করছি নিজেদের একটি কমিউনিকেশন প্লাটফর্মের উপর। অ্যাপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে ব্যবহারকারীদের সহজে যোগাযোগ করার সুবিধা দিতেও আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা ট্র্যাডিশনাল স্ট্যাটিক অ্যাপ ট্রেন্ডের অনুসারী নই, আমরা radical আইডিয়া নিয়ে কাজ করি ব্যবহারকারীর প্যাটার্ন অ্যানালাইজ করে, বিভিন্ন সোর্স থেকে ডাটা স্ক্র্যাপ করে আমাদের সার্ভিসগুলো তৈরি করছি! অতি সম্প্রতি আমরা হার্ডওয়্যারের দিকে ঝুঁকেছি এবং অটোমোবাইলের অটোমেশনের জন্য স্মার্ট সল্যুশনস আনার জন্য কাজ শুরু করব নিকট ভবিষ্যতে।

আপনি WALTON এর সাথে কি ধরনের কাজ করেছেন?

আমি শখের বশে এম্বেডেড লিনাক্স (মোবাইল, ট্যাবলেট, ঘড়ি, ফ্রিজ, টিভি, জুতো ইত্যাদির লিনাক্স) নিয়ে কাজ করতাম। আমার জন্মদিনে আমি একটি ওয়ালটন প্রিমো এফ৩আই কিনে আনি। এনে দেখি তার কার্নেলের সোর্সকোড নেই। তখন আক্ষেপ জানিয়ে ডেভেলপার গ্রুপগুলাতে জানাই। ধীরে ধীরে ওই ফোনে আমি কাস্টম ফার্মওয়্যার তৈরি শুরু করি, এবং এক পর্যায়ে ওয়ালটন রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট টিমের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন ইমরান ভাই।

ওই টিমের থেকে ডিভাইস নিয়ে আমি ভলান্টারিলি কাজ করতাম মনে আনন্দের জন্য। তখন কয়েকটা ডিভাইসের জন্য লিনাক্স কার্নেল, ড্রাইভারসহ ইমপ্লিমেন্ট করেছিলাম, এবং অ্যান্ড্রয়েড কিটক্যাট পোর্ট করেছিলাম। এমবেডেড লিনাক্স নিয়ে এক বিশাল পরিমাণ অভিজ্ঞতা পেয়েছি ওয়ালটনের ফোনগুলো নিয়ে কাজ করার সময়।

আপনি ৫ বছর ধরে সফ্টওয়্যার ডেভেলপার (৩ বছর ধরে পেশাদার), কোন প্রোগ্রামিংল্যাঙ্গুয়েজে আপনি কোড করতে ভালবাসেন ও কেন ?

আমার পছন্দের তালিকায় সবার প্রথমে রয়েছে পাইথন। পাইথনের অসাধারণ সিনট্যাক্স, বিশাল পরিমাণ লাইব্রেরি, টুলসের পাশাপাশি সকল মেজর অপারেটিং সিস্টেমে সাপোর্টের জন্য পাইথন আমার প্রথম পছন্দ। একই প্রোগ্রাম / স্ক্রিপ্ট আমি উইন্ডোজ, ম্যাক, লিনাক্সে ব্যবহার করতে পারি প্রায় কোনরূপ পরিবর্তন ছাড়াই – এটা একটা মেজর কারণ।

মূলত ওয়েব-বেজড অ্যাপ্লিকেশন নিয়েই পূর্বে অনেক বেশি কাজ করা হত, তখন Django এবং Bottle ফ্রেমওয়ার্ক দুটো নিয়েই দিন কাটত। ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ছাড়াও ডাটা মাইনিং, স্ক্র্যাপিং ও বিভিন্ন প্রকার অটোমেশনে ব্যবহার করি পাইথন। পাইথনের মজাটা হল এর সিনট্যাক্সে। আর যত প্রকার কাজ করতে হয়েছে সবকিছুর জন্যই আছে কোন না কোন পাইথন লাইব্রেরি, আর প্রয়োজন হলে সি লাইব্রেরির সাথে লিংক করেও ব্যবহার করার উপায় থাকায় পাইথন ছেড়ে যাওয়ার প্রয়োজন পড়েনি তেমন একটা – পাইথন ছেড়ে যেতেও ইচ্ছে করে না অবশ্য! পাইথন সিনট্যাক্স আর সিনট্যাকটিক শুগারের জন্য ভালোবাসার মতই একটা ল্যাঙ্গুয়েজ।

ডেভেলপমেন্টের জন্য কোন IDE টি আপনার কাছে সেরা মনে হয় ?

ছোটখাট স্ক্রিপ্ট তৈরির সময় দেখা যায় কমান্ডলাইনে nano টেক্সট এডিটর দিয়েই কাজ চালিয়ে দেই, কখনো কখনো Sublime Text ও ব্যবহার করি মোটামুটি সাইজের প্রজেক্টে। সিরিয়াস রকমের বড় প্রজেক্ট ছাড়া জটিল আইডিই ব্যবহার করার ধৈর্য্য হয়নি এখনও, আইডিইর ইন্টারফেসই আমার কাছে ভীতিকর লাগে! ওরকম প্রজেক্ট হলে দেখা যায় পাইথনের জন্য PyCharm, অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপের জন্য অবশ্যই Android Studio এবং সি/সি++ এর জন্য Eclipse CDT ব্যবহার করে থাকি।

ডেভেলপমেন্টের জন্য কোন অপারেটিং সিস্টেম(ওএস) আপনি ভাল মনে করেন ?

যেকোন ইউনিক্স ফ্যামিলির ওএসকে আমি প্রাধান্য দিব। আমার কাজ করা হয় মূলত পাইথন, পিএইচপি কিংবা সি/সি++ নিয়ে। বাংলাদেশে ডেভেলপারদের এক বিশাল অংশ পিএইচপি ব্যবহার করেন। পিএইচপি ভালোমত ব্যবহারের জন্য লিনাক্সের বা ম্যাকের মত ইউনিক্স টাইপ সিস্টেমের বিকল্প হতে পারে না! উইন্ডোজে দেখা যায় সামান্য একটা পিএইচপি প্যাকেজ ইন্সটল করতে দিন চলে যায়। লিনাক্সে শুধুমাত্র এক কমান্ড দূরে। ডেভেলপমেন্টের জন্য আনুষাঙ্গিক টুলস, সার্ভার ইত্যাদিও কনফিগার করা এক কমান্ডের ব্যাপার মাত্র। Apache সার্ভার ইন্সটল করবেন? কমান্ড দিন ‘apt-get install apache2’ বা ম্যাকে ‘brew install apache2’, এতে যেমন ইন্সটল ও কনফিগারেশনের সময় বাঁচে, কাজের মনোযোগও অন্যদিকে সরে যায় না। কমান্ডলাইন টুলগুলতে অভ্যস্ত হলে এবং স্ক্রিপ্টিং শিখে গেলে ঘন্টাখানেকের কাজ মূহুর্তে করে ফেলা যায়। লিনাক্স / ম্যাকের ডেভেলপার ফ্রেন্ডলিনেস এবং কমান্ডলাইনের শক্তি নিয়ে কয়েকটি বই লিখে ফেলা যায়। মোট কথা ডিসট্র্যাকশন ফ্রি আরামদায়ক কোডিং এর জন্য লিনাক্স বা ম্যাকের বিকল্প আমি আজ পর্যন্ত পাইনি।

ব্যক্তিগতভাবে আমি আমার নোটবুকে ম্যাক ওএস এক্স এবং ডেস্কটপে উবুন্টু লিনাক্স ব্যবহার করে থাকি।

সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের জন্য কোন সাইট বা ব্লগগুলো আপনি নিয়মিত ভিজিট করেন ?

আমাকে নিয়মিত ভিজিট করতে হয় Mozilla Developer Network – ওয়েব টেকনোলজি সংক্রান্ত ডকুমেন্টেশন পড়ার জন্য, StackOverflow তে বিভিন্ন বিষয়ে সমস্যার সমাধানের জন্য, এছাড়াও নিয়মিত অনুসরণ করি এমন কয়েকটা ব্লগ হল HTML5Rocks, Mozilla Hacks এর পাশাপাশি XDA-Developers ফোরাম

এমন কোনো প্রোজেক্ট বা প্রোডাক্ট আছে কি যেটি নিয়ে আপনি গর্ব বোধ করেন ?

আমার বর্তমান কর্মস্থল, গোল্ডবার্গ লিমিটেডে আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক একটি অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করছি আমাদের ভবিষ্যৎ স্মার্টফোনগুলোর জন্য – যা ব্যবহারকারীর পরিপার্শ্ব, অবস্থান ইত্যাদি বিভিন্ন সেন্সরের মাধ্যমে ইনপুট নিয়ে প্রসেস করে ব্যবহারকারীর অভ্যাস, আচার-আচরণের সঙ্গে সমন্বয় ঘটিয়ে একটি অভূতপূর্ব স্মার্টফোন অভিজ্ঞতা অফার করবে।

আমাদের স্টার্টআপ, ক্রসওয়্যারেও আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক একটি ট্র্যাভেল অ্যাসিস্ট্যান্ট তৈরি করছি, যা শীঘ্রই প্রকাশিত হবে ওয়েব ছাড়াও সকল মেজর মোবাইল প্লাটফর্মের জন্য।

এছাড়াও যখন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিলাম, আমি আর রুয়েটের শাওন ভাইয়া প্রথম লিনাক্স থেকে বাংলালায়ন মডেম কার্যকর করতে সমর্থ হই। তারপর থেকেই বাংলালায়নের নির্দিষ্ট কয়েকটি মডেম লিনাক্সে ব্যবহার করা যেত! কৈশোরের ওই প্রজেক্ট নিয়ে আমি এখন অবধি গর্বিত!

aniruddha-hackathon

আপনার সম্প্রতি অবদান রাখা কোন প্রিয় ওপেন সোর্স প্রজেক্ট (বা প্রকল্প) আছে?

সম্প্রতি আমি ফায়ারফক্স ওএস অপারেটিং সিস্টেমে কিছু অবদান রেখেছি, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বাংলা টাইপিং এর জন্য সিস্টেমে অভ্র এবং প্রভাত কীবোর্ড যোগ করে দেওয়া। এছাড়াও সায়ানোজেনমড প্রজেক্টে অতি সামান্য অবদান রয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের অন্যতম লিনাক্স ফোরাম, লিনাক্স কমিউনিটি ফোরাম চালু করেছিলাম ২০১১ সালে। লিনাক্সকে প্রিচ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ঘোরাঘুরি করার ইতিহাসও আছে আমার, ঢাকা শহরকে চিনেছি এসকল প্রচারণা কাজের মধ্য দিয়ে!

আপনার প্রতিদিনের কাজ করার জন্য কোন ডিভাইসটি বেশি ব্যবহার করে থাকেন এবং কেন ?

সাধারণত সারাদিনের সঙ্গী আমার নোটবুকটা – একটি ম্যাকবুক এয়ার ২০১১। দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি, স্লিম ও হালকা ডিজাইনের পাশাপাশি ম্যাক ওএস এক্স এর জন্য ডিভাইসটি আমার খুবই প্রিয়। আমার একান্ত ব্যক্তিগত মতে, একজন ওয়েব ডেভেলপারের জন্য ম্যাক ওএস এক্সের খুব ভাল বিকল্প হতে পারে না! আমার সকল প্রয়োজনীয় ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজসহ অন্যান্য কাজ নিমিষেই হয়ে যায় ম্যাকবুকে।

এছাড়াও ডেস্কটপটি কেবলমাত্র স্মার্টফোন অপারেটিং সিস্টেম বিল্ড করার জন্য ব্যবহার করি।

তিনটি অ্যাপ্লিকেশন,সফটওয়্যার বা টুলস যেগুলো ব্যতিত আপনি একেবারেই চলতে পারেন না ?

মজিলা ফায়ারফক্স, টার্মিনাল (iTerm / GNOME Terminal) এবং Sublime Text 3।

আপনার কাজের যায়গাটি কেমন?

অধিকাংশ সময়ই আমি আমার বাসার রুমে বসে কাজ করি। আমার স্টাডি টেবিলে নোটবুক রেখেই অধিকাংশ সময় কাজ করি, জানালার পাশে স্টাডি হওয়ায় বাইরের বাতাসটাও ভাল লাগে। কখনো কখনো আমার বিছানায় বসে কাজ করি, দেয়ালের সঙ্গে হেলান দিয়ে। স্মার্টফোন ওএস নিয়ে কাজ করতে হলে আমার ডেস্কটপ ছাড়া গতি থাকে না। ডেস্কটপটির সাথে একটি সাদামাটা কাঠের চেয়ার – ব্যাস! এই আমার সাদামাটা বাসার ওয়ার্কস্পেস। আর অফিসে (গোল্ডবার্গ লিমিটেড) এ আমার ডেস্ক আছে একটা, তার সঙ্গে একটা চেয়ার। সেখানে আমার নোটবুক নিয়ে বসে কাজ করি।

aniruddha-workspace

কাজ করার সময় আপনি কোন ধরনের গান বা কবিতা শুনতে পছন্দ করেন?

কিছুদিন আগেও আমি Digitally Inspired এর Chillout চ্যানেলের ফ্যান ছিলাম – ইলেকট্রনিক মিউজিকের। এখন আর ভাল লাগে না। এখন, আমি বৃষ্টি আর মেঘের গর্জনের অডিও ট্র্যাক প্লে করে কাজ করি! হেডফোন হল একটা স্যামসাং ফোনের সাধারণ হেডফোন।

আপনার সময় বাঁচানোর সেরা শর্টকাট বা লাইফহ্যাক কি?

আমি রেডিমেড কিছু টেম্পলেট তৈরি রাখি কমনলি যেসব প্রজেক্ট তৈরি করতে হয়, সেসবের। আর প্রায় সবকিছুই অটোমেট করার চেষ্টা করি পাইথন দিয়ে। ওয়েবসাইট থেকে ডাটা কালেক্ট করতে হলে পাইথনে স্ক্রেপার লিখে কাজে লাগিয়ে দিই, ছবির ফোল্ডার সাজাতে হলেও স্ক্রিপ্ট লিখে বসে থাকি!

প্রতিদিনের টু-ডু লিস্ট করার জন্য কোন সফটওয়্যার/পন্থা টি আপনার কাছে সেরা মনে হয় ?

Any.Do

 aniruddha-todo

একজন বাংলাদেশি হিসেবে যানজট আমাদের নিত্য দিনের সঙ্গী। আপনি যখন যানজটে অলস বসে থাকেন তখন কি করেন ?

সাধারণত বাইসাইকেল ব্যবহার করায় যানজটে পড়তে হয় না আমাকে, তাও যখন পড়ে যাই বা অন্য যানবাহনে চড়ি, তখন মাথায় উদ্ভট সব আইডিয়া খেলা করে। এমন অনেক আইডিয়া ইমপ্লিমেন্টও করেছি, সফল হয়েছি। কখনো প্রজেক্টের কথা ভাবি, আর মোবাইলে ডাটা প্যাকেজ থাকলে ডেভেলপমেন্ট সংক্রান্ত গ্রুপগুলোতে ঘুরাঘুরি করে দেখি নতুন কি টেকনোলজি মানুষ ব্যবহার করছে, আর মাঝেমধ্যে xkcd কমিকস পড়ি। কখনও আমি সাইকেল চালাতে গিয়েও চিন্তায় মশগুল হয়ে যাই, যা মোটেই ঠিক নয়। স্রষ্টার দয়ায় আমার সিরিয়াস দুর্ঘটনা হয়নি!

আপনি কোন সময়টাতে কাজ করতে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন ?

রাত ১২টার দিকে বাসার সবাই, এলাকার সবাই যখন চুপচাপ শান্তিমত ঘুমায়, তখন শুনশান নীরবতার মাঝে কাজ করতে অসাধারণ লাগে – যদিও ডাক্তার সাহেব মানা করেছেন, ডাক্তারের কথাটা কমই শোনা হয়।

আপনার দৈনিক ঘুমানোর সময়সূচি কেমন?

আমার ঘুম অনেকটা /dev/urandom স্টাইলের। তবে সাধারণত দেখা যায় যে, আমি দুপুরে ১.৫ ঘণ্টা ও রাতে ৩-৪ ঘণ্টা ঘুমাই, যা আমার ঘুমের নূন্যতম প্রয়োজন থেকে অনেকটাই কম। তবে কাজ না থাকলে এবং ক্লান্ত থাকলে ঘুম ৮ ঘণ্টা ছাড়িয়ে যায় লং জার্নির পর।

কোন কাজটিতে আপনি সবার থেকে একটু আলাদা, একটু ভালো –

নুডুলস রান্না এবং কফি বানানো। আমি এই দুইটি কাজে খুবই খুঁতখুঁতে ও যত্নবান। মা মাঝেমধ্যে এসে বলেন, “তুই কি রাঁধছিস? দে আমি রেঁধে দিই।” আমি অবশ্য আমার মনে রান্না করতে থাকি, নিজেকে এই রান্নার ব্যাপারে ওভার-পারফেকশনিস্ট মনে হয়।

গুণীজনদের কাছ থেকে পাওয়া এখন পর্যন্ত সেরা উপদেশ আপনার কাছে কোনটি মনে হয়েছে ?

First they ignore you, then they laugh at you, then they fight you, then you win. – গান্ধিজি

একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার কে কোন বইগুলো এবং সিনেমাগুলো অবশ্যই পড়া ও দেখা উচিৎ ?

Coremen এর Introduction to Algorithms বইটা বুকশেলফে রাখা উচিৎ। আমি নিজে বইয়ের থেকে অনলাইন রিসোর্সে বেশি মনযোগী। ডেভেলপাররা The Revolution OS, Antitrust মুভি দুইটি দেখতে পারেন, আমার পছন্দ!

aniruddha-books

যেকোনো জটিল পরিস্থিতিতে নিজের কাজ করার মানসিকতা ঠিক রাখার জন্য আপনি কি করেন?

খুব জটিল সমস্যার পড়ে গেলে ওয়াশরুমে গিয়ে হাতমুখ ধুয়ে সোজা বাইরে শংকর বাসস্ট্যান্ড চলে যাই মামার লাল চা খাওয়ার জন্য। আমি সবসময় একটি নীতি অবলম্বন করি, বেশি টেনশন করব না। অতিরিক্ত টেনশনে চিন্তার ক্ষমতাই ঠিক থাকে না। তাই আমি ব্যপারটিকে সহজভাবে নিয়ে মাথা ঠাণ্ডা করে চিন্তা করতে থাকি। পথের মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে একটা সমাধান ঠিকই বের হয়ে যায়।

আপনি নিজেকে এখন থেকে পরবর্তী ৫ বছরের মধ্যে কোথায় দেখতে চান?

১। একটি নামজাদা বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে নিউক্লিয়ার প্রকৌশলে কিংবা তড়িৎপ্রকৌশলে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট সম্পন্ন করেছি।

২। বাংলাদেশ থেকে বিশ্বমানের স্মার্টফোন অপারেটিং সিস্টেম লাইসেন্স করে দিচ্ছি এবং আন্তর্জাতিক ম্যানুফ্যাকচারারদের সাথে পার্টনারশিপে কাজ করছে আমার প্রতিষ্ঠান।

যারা ভবিষ্যতের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হতে যাচ্ছে তাদেরকে আরও উৎসাহিত করতে আপনার কোন উপদেশ আছে কি?

উৎসাহমূলক হয়ত নয়, কিন্তু আমি বলব কখনোই অর্থবিত্তের স্বপ্ন দেখে টেক ইন্ডাস্ট্রিতে আসবেন না, অনুগ্রহ করে টাকাপয়সার স্বপ্নে বিভোর হয়ে কাজ করবেন না। চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা, সমস্যা সমাধানের জন্য নতুন কোন সল্যুশন তৈরি – হোক অ্যাপ, ডিভাইস, সার্ভিস – এর উদ্দেশ্য থাকলেই আসা উচিৎ। সৃজনশীলতার আনন্দ মানুষের মধ্যে একজন সফটওয়্যার প্রকৌশলীর মত আর কেউ উপভোগ করতে পারে বলে মনে হয়না, তার নিজের কোড এডিটরের ক্যানভাসে সে নতুন বিশ্ব নির্মাণ করতে পারে, সমাজের ভবিষ্যতের প্রকৌশলী হলেন আজকের সফটওয়্যার প্রকৌশলী। সৃজনশীলতার আনন্দ পেতে এবং মানুষকে উপহার দেবার সংকল্প নিয়েই এ পেশায় আশা উচিৎ। তাহলেই সাফল্যের সম্ভবনা অনেক অনেক বেশি, আর ব্যর্থ হলেও ব্যর্থতাও আনন্দ পাওয়া যায়।

একই প্রশ্নগুলোর উত্তর আপনি কার কাছ থেকে শুনতে পছন্দ করবেন?

আমি এই একই প্রশ্নের উত্তর গুলো সারিম খানের কাছ থেকে শুনতে পছন্দ করব।

aniruddha-sarim-bhai

Shares