আমি সামিরা জুবেরী হিমিকা, টিম ইঞ্জিন এর প্রতিষ্ঠাতা
আমি যেভাবে কাজ করি

Shares

নাম ও পেশা:

সামিরা হিমিকা,  টিম ইঞ্জিন এর প্রতিষ্ঠাতা।

এক কথায় টিম ইঞ্জিন কে কিভাবে বর্ণণা করবেন?

টিম ইঞ্জিন একটি সোশ্যাল গুড কোম্পানী, অর্থাৎ সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ। আমরা এমন একটি কোম্পানী যেটি সোশ্যালি মোটিভেটেড।

আমরা টেকনোলজি এবং ইনোভেশন নিয়ে কাজ করি, ইকো সিস্টেম এর অন্যান্য প্রতিষ্ঠান গুলোকে একত্রিত করি যাতে কোন গ্যাপ না থাকে। প্রফিট মেকিং আমাদের প্রথম উদ্দেশ্য নয়, আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট।

আপনার মতে একজন উদ্যোক্তা আর একজন ব্যাবসায়ীর মধ্যে পার্থক্য কোথায়?

মূলত এদের উদ্দেশ্য এর মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। কিন্তু তাদের দৃষ্টিভঙ্গি, কাজ করার কৌশল সেটা তাদের ভিন্ন করে তুলে ধরে। একজন ব্যবসায়ী হয়তো উত্তরাধীকার সূত্রে ব্যবসা শুরু করে, অপরদিকে একজন উদ্যোক্তা নিজে উদ্যোগ নিয়ে নতুন কিছু সৃষ্টি করে।

আপনার মতে একজন মানুষ কিভাবে উদ্যোক্তা হিসেবে অণুপ্রানিত হতে পারে?

অনেকে আছে জন্মগতভাবে প্রতিভাবান। কিন্তু অনেকে প্রতিভাবান হয়েও উদ্যোক্তা  হতে পারে না।একজন মানুষ কি করতে পারবে তার ৭৫ ভাগ নির্ভর করে তার নিজের উপর। একজন মানুষ তখনি উদ্যোক্তা হতে পারে যখন সে সেলফ মটিভেটেড, কঠোর পরিশ্রম করে নিজেকে উদ্যোক্তা  হিসেবে তৈরি করতে পারে।

আর আমি মনে করি উদ্যোক্তা হিসেবে একজনকে তিনটি বৈশিষ্ট্যের অনুসরণ করতে হবে, আর তা হলো- কিউরিসিটি, কনসিসটেন্সি আর কারেজ।

1658624_839617499413523_8809722169288164572_o

কোন মেয়ে যদি উদ্যোগ নিতে গিয়ে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয় তখন তাকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আপনি কি উপদেশ দিবেন?

আসলে এ ব্যাপারে তাকে আগে থেকেই পরিবার এর বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কেউ যদি কাজের কথা বলে যদি বাহিরে সময় কাটায় এবং সেটা পরিবার জানতে পারে তবে কিন্তু বিশ্বাস ভঙ্গ হয়। আর একবার বিশ্বাস ভঙ্গ হলে সে যদি পরবর্তীতে উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করতে যায় তাহলে বিশ্বাস অর্জন করাটা তার জন্য খুব কঠিন হয়।

সমাজে নারীরা অনেকে অনেক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয় সে ক্ষেত্রে আমি বলব আরেকজন নারী উদ্যোক্তাকে দেখে তার কাছ থেকে ইন্সপায়ার হয়ে এবং তারা যেভাবে সামনে এগিয়েছে সে মেথডে আগানো যেতে পারে।

এটা একটা কঠিন পথ, সে মেয়ে হোক বা ছেলে হোক সবসময় তাকে প্রতিবন্ধকতার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে এবং তা অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

এছাড়া মেয়েদের একটি সমস্যা হলো আমরা সমাজের সবাইকে খুশি করে চলতে চাই।এটা আমাদের কালচার থেকে শেখানো হয়। এবং এই ব্যাপারটা মেয়েদের সবচেয়ে বেশি হ্যাম্পার করে নিজের স্বপ্ন পূরনে।

মেয়েদের আইসিটি ইন্ডাস্ট্রিতে যোগ দিতে অণুপ্রাণিত করতে চাইলে কি করা উচিত বলে মনে করেন?

মেয়েরা সাধারণত ইউনিভার্সিটি  তে থাকা অবস্থায় আইসিটি নিয়ে পড়াশোনা করলেও চাকরী খোজার সময় অণুপ্রেরণার অভাবে এই ফিল্ডে আসতে চায়না। আবার আরেকটি গ্রুপ আছে যারা ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ভাল কোথাও ঢুকতে পারেনা। আবার আরেকটি দল হয়তো ঢুকতে পেরেও সামনে কিভাবে বড় হবে তা বুঝতে পারেনা।
এক্ষেত্রে ইউনিভার্সিটি তে থাকা অবস্থাতেই ওরিয়েন্টেশন এর ব্যাবস্থা করতে হবে এবং আইসিটি এর স্কোপ গুলো দেখিয়ে দিতে হবে। এবং আইসিটি সেক্টর এ বাংলাদেশের নারী রোল মডেলদের দেখানো ও কাউন্সিলিং করা। এছাড়াও আরেকটি অংশ হতে হবে যেখানে গ্র‍্যাজুয়েশন এর পর কি করতে হবে বা কি ট্রেনিং লাগতে পারে তা সম্পর্কে খোঁজ খবর রাখা।

1798998_632978640084352_1512277492_o

উদ্যোক্তা দের একটি অন্যতম সমস্যা হলো পার্টনার সিলেকশন নিয়ে। এ বিষয়ে আপনার মতামত কি?

যেকোন পার্টনারশিপ ই কঠিন, এবং তা ভাঙা গড়ার মধ্য দিয়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক। শুরুর সময় কাছের কাওকে দিয়ে শুরু করা ভালো।

আর পার্টনার নির্বাচন করার সময় এমন কাওকে বেছে নিতে হবে যে আপনার পরিপূরক। একজন যেটা পারেনা অপরজন কে তা পারতে হবে, তাহলে কোম্পানীর থ্রি সিক্সটি ডিগ্রী কভার হবে। এছাড়াও পার্টনার দের মধ্যে অবশ্যই ট্রাস্ট থাকতে হবে।

আপনার ভিশনের ব্যাপারে আপনার টিম মেম্বারদের মতামত কি রকম?

আমি আউট অফ দা ওয়ার্ল্ড এর বিভিন্ন জ্ঞান তাদের সাথে শেয়ার করে থাকি আর তাই তারা আমাকে অনেক পছন্দ করে।টিম এর মধ্যে যারা মিশতে না পারে, ভিশন এর সাথে যারা খাপ না খাওয়াতে পারে সাধারণত তারা টিম এ বেশি দিন থাকে না বা থাকতে চায় না। এছাড়া আমি আমার সকল আইডিয়া আমার টিম মেম্বারদের দের সাথে শেয়ার করি, এবং আমার টেবিলে সিক্রেট বলতে কিছু নেই।

আপনি আপনার টিম মেম্বার দের কিভাবে অণুপ্রেরণা দিয়ে থাকেন?

একজন মানুষ তখন ইন্সপায়ার হয়ে কাজ করবে যখন দেখবে অন্য মানুষ সেই কাজ টি করছে। তাই আমি নিজে কাজ করে বাকি টিম মেম্বার দের ইন্সপায়ার করি।আমি নিজে যেটা পারি সেটাই তাদেরকে করে দেখাই যে কিভাবে কাজ টা করা সম্ভব।

কেউ ভুল করে আসলেও তাকে আমি কখন বলি না যে কেন তুমি ভুল করেছ,বরং তাকে অণুপ্রেরণা দিয়ে ভুলটা থেকে শিখতে বলি এবং সামনে এগিয়ে যেতে বলি। কারন ভুল থেকেও শেখার আছে।যখন সে শিখবে তখন সে আর একি ভুল বার বার করবে না।

এছাড়াও আমি শেখার জন্য তাদের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে  কথা বলে থাকি।

আপনি একসাথে অনেক কিছু ম্যানেজ করছেন কিভাবে?

আমি রুটিন এর মধ্যে থাকার চেষ্টা করি। এর মানে কোন স্ট্রিক্ট রুটিন নয়। আমার এক সপ্তাহের রুটিনে আমার সব কাজ ই থাকে, এমন কি গান গাওয়া, ছবি আঁকাও।

কোন জটিল পরিস্থিতিতে নিজেকে কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন?

আমি কখনো ভেঙে পড়িনা। গত চার বছরে ভেঙে পড়ার মত অনেক ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু আমি ভেঙে পড়িনি। কখনো কোন জটিল পরিস্থিতি তে পড়লে আমি পেইন্টিং করি বা গান করি। এগুলো অনেকটা মেডিটেশন এর মতো।তাছাড়াও আমার যারা সিনিয়র আছে আমি তাদের সাথে আলোচনা করি যে কিভাবে সমস্যাটার সমাধান সম্ভভ।  

8

যানজটের পড়লে কিভাবে সময় কাটান?

ইদানীং আমার মোশন সিকনেস হচ্ছে তাই আমি চলার সময় পড়তে পারিনা। এর আগে আমি বই পড়তাম, আর্টিকেল পড়তাম অথবা ই মেইল এর রেসপন্স করতাম। এখন যেহেতু সেটি পারছিনা সেহেতু আমি আমার পেন্ডিং ফোন কল গুলোর মাধ্যমে ফলোআপ এ সময় কাটাচ্ছি।

আপনার কাজের স্থানটি কি রকম?

আমার কাজের স্থানটি এক কথায় সুন্দর হতে হয়। অনেকে আছে যার ডেস্কে কিছুই থাকেনা, আবার অনেকের ডেস্ক অগোছালো থাকে। কিন্তু আমার কাজের স্থান টি অবশ্যই পরিপাটি এবং শৈল্পিক হতে হয় এবং তা না থাকলে আমি তা করে নেই। আমার আশে পাশে পেইন্টিং, ফটোগ্রাফি, আলো বাতাস থাকতে হয়। আমি আমার কাজ করার জায়গাটা নিয়ে খুবই সেন্সেটিভ।আমার কাজের জায়গা যদি সুন্দর হয় তবে আমার কাজ ও সুন্দর হয়।

12405277_10208602573848737_545770994_o

আপনার ঘুমানোর সময়সূচী কি রকম?

একসময় আমাকে দিনে প্রায় ১৫ ঘন্টা কাজ করতে হতো তাই ঠিকমতো ঘুমানো হতোনা। তবে এখন আমি কিছুটা নিয়ম মেনে ঘুমানোর চেষ্টা করছি।

আপনাকে অণুপ্রেরণা দেয় এরকম কয়েকজন এর কথা উল্লেখ করতে চাইলে আপনি কাদের কথা বলবেন?

এরকম অনেকেই আছেন। তবে এর মধ্যে রোকেয়া আফজাল, দূরীন শাহানাজ হলো ডিসকাশন এর উর্ধে। এছাড়াও আছে, সুলতানা কামাল,তারানা হালিম, বিবি রাসেল, এলন মাস্ক, ডাঃ অনন্য রায়হান, জুনায়েদ আহমেদ পলক, মুস্তফা জাব্বার এবং আরো অনেকে।

শূণ্যস্থান পূরণ করুন। আমি একই প্রশ্ন গুলো  এর কাছ থেকে শুনতে চাই।

ডাঃ অনন্য রায়হান

আপনি তো গান করেন। যদি আমাদের পাঠক দের জন্য কয়েক লাইন গেয়ে শোনাতেন।

Shares